Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype

ভোজন রসিক মধ্যবয়সী দীপেনবাবুর অনেকদিন ধরেই অ্যাসিডিটির সমস্যা । আজ মেয়ের জন্মদিন বলে বাড়িতে কবজি ডুবিয়ে খেয়েছেন, সবে একটু  শুয়েছেন আর তখনই অসহ্য বুক জ্বালা আর চোঙা ঢেকুর অর্থাৎ অ্যাসিডিটি। অ্যান্টাসিডের ট্যাবলেট খেতেই হল। এ সমস্যা শুধুমাত্র দীপেনবাবুর নয়, এসমস্যা বহু বাঙ্গালির। অ্যাসিডিটি নিয়েই আজ কথা বলব কিন্তু তার আগে জানা দরকার কেন এমন হয়। কী কারণে হয় অ্যাসিডিটি ?

অ্যাসিডিটির নানা কারণ

আমরা যে খাবার খাই তা সোজা আমাদের পাকস্থলীতে প্রবেশ করে এবং এই খাদ্য হজম বা পরিপাকের জন্য পাকস্থলীর বিভিন্ন গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড থেকে অ্যাসিড ক্ষরিত হয়। কিন্তু যখন এই অ্যাসিড ক্ষরণের পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় বেশী হয় তখন আমাদের বুকে জ্বালা, টক ঢেঁকুর, বমি-বমি ভাবের মতন সমস্যা তৈরি হয়, একেই আমরা অ্যাসিডিটি বলি। এর অন্যান্য উপসর্গগুলি হল কোষ্ঠকাঠিন্য, মুখে দুর্গন্ধ, খাবার গিলতে কষ্ট হওয়া মুখ সবসময় টক স্বাদ অনুভূত হওয়া। অ্যাসিডিটি হওয়ার মূল কারণ কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, এছাড়া অপর্যাপ্ত ঘুম এবং স্ট্রেসও এর জন্য দায়ী। হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস থাকা, কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য পেট পরিষ্কার না হওয়া কিংবা গ্যাস্ট্রিক আলাসার বা গলব্লাডারে স্টোনের কারণেও অ্যাসিডিটি হয়। এরই সঙ্গে ধূমপান ও মদ্যপানও একটা বড় কারণ।

যে নিয়মগুলি মেনে চললে আপনি সহজেই অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে দুরে থাকতে পারেন  

১। পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন, দিনে অন্তত ৮-৯ গ্লাস

২। তেলে ভাজা, মশলাযুক্ত এবং ফাস্টফুড থেকে দুরে থাকুন

৩। অ্যালকোহল, নরম পানীয় এবং চা-কফি এড়িয়ে চলুন

৪। খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনুন। প্রথমেই ঠিক করে নিন- একবারে বেশি না খেয়ে কম কম করে বারেবারে খান।

৫। দীর্ঘসময় খালি পেটে থাকবেন না। খালি পেটে থাকলে বিভিন্ন গ্রন্থি থেকে নির্গত অ্যাসিড সরাসরি পাকস্থলীর দেওয়ালে পড়ে, এবং দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে আলসার বা ঘা পর্যন্ত হতে পারে।  

৬। রাতের খাবার ঘুমানোর ২-৩ ঘণ্টা আগে খান, খেয়েই শুয়ে পড়বেন না, প্রয়োজনে একটু হাঁটুন।  

৭। নিয়মিত ব্যায়াম অথবা যোগ অভ্যাস করুন

৮। টক ফল বাদ দিয়ে Non-citrus ফল যেমন আপেল, তরমুজ, ন্যাস্পতি এবং কলা খান

৯। ঢিলেঢালা বা এমন জামাকাপড় পরুন যাতে পেটের উপর কম চাপ পড়ে

১০। অবিলম্বে ধূমপান ত্যাগ করুণ

এই অভ্যাসগুলিই আপনাকে ফিরিয়ে দিতে পারে অ্যাসিডিটি মুক্ত এক নতুন জীবন। কিন্তু মনে রাখবেন, অত্যাধিক তেল মশলাযুক্ত খাবার একেবারেই নয়। ছোঁয়া যাবে না চাটনি, ঝাল আচা্রও।

এর পরেও অ্যাসিডিটি থেকে পুরোপুরি নিরাময় বোধ না করলে, দেরি না করে কোনও গ্যস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। মনে রাখবেন, আপনি যেটা নামমাত্র অ্যাসিডিটি ভেবে অবহেলা করছেন সেটি কিন্তু পাকস্থলীর ক্যান্সারের প্রথমিক লক্ষণও হতে পারে।

Share on facebook
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp