Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype

আজকালকার স্ট্রেসফুল লাইফে ডিপ্রেশন একটা গুরুতর সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, 2020 সালের মধ্যে গোটা বিশ্ব জুড়ে ক্যানসারের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম রোগ হবে এই ডিপ্রেশন। আসলে কি এই ডিপ্রেশন? কখন বুঝবেন আপনি এই রোগে আক্রান্ত? এর প্রতিকারই বা কি? আসুন আজ আমরা আলোচনা করি এই ভয়ঙ্কর সমস্যাটির কারণ, লক্ষণ এবং চিকিৎসা নিয়ে।

ডিপ্রেশন কি?

ডিপ্রেশনের অর্থ অবসাদ। অবসাদ মানে হল সবসময় একটা মনখারাপ ভাব। মনখারাপ একটা মানুষের হতেই পারে। সমযের সাথে সাথে সেটা কমেও যায়। কিন্তু যদি দেখা যায়, সেই মনখারাপটা দীর্ঘদিন ধরে চলছে এবং সেটা দৈনন্দিন কাজকর্মকে রীতিমত প্রভাবিত করতে শুরু করেছে, তখন সেটাকে আমরা মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনের পর্যায়ে ফেলি। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে এই মানসিক অবসাদ কিন্তু একটা অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা। 2011 সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশঙ্কা প্রকাশ করে, 2020 সালের মধ্যে গোটা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ভিত্তিতে ক্যানসারের পরই থাকবে ডিপ্রেশন। একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, পৃথিবীতে যত মানুষ আত্মহত্যা করেন, তার নব্বই শতাংশ কারণ মানসিক অবসাদ।

ডিপ্রেশন

এই মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশন কেন হয়?

ডিপ্রেশনের অনেক গুলো ভাগ হয়। অবসাদের গভীরতার ভিত্তিতে যদি দেখি, তাহলে ডিপ্রেশন দুপ্রকার। একটাকে বলা হয় মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার বা এমডিডি, এর মানে হল গভীর অবসাদ, আর একটি হল মৃদু অবসাদ।  সাধারণত কোনও ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মধ্যে ডিপ্রেশন আসে, সেটা কোনও প্রিয়জনের মৃত্যু হতে পারে, পরীক্ষা অথবা কার্যক্ষেত্রে ব্যর্থতা হতে পারে, বা অন্য যে কোনও কিছুই হতে পারে। একটি সমীক্ষা বলছে- জিনগত ভাবেও কেউ কেউ ডিপ্রেশনের শিকার হন। তবে প্রথমেই কারওর গভীর অবসাদ হয়না, মৃদু অবসাদ থেকেই ধীরে ধীরে গভীর অবসাদ তৈরি হয়।

ডিপ্রশনের লক্ষণগুলো কিরকম?

ডিপ্রেশনের লক্ষণ অনেকরকম হতে পারে। প্রধান লক্ষণ মন খারাপ, নিজেকে নিরাশ ও অসহায় মনে হয়, কোনও কাজে মন বসে না, সবসময় একটা কান্নার অনুভূতি ঘিরে থাকে। অনেকের মধ্যে আত্মহত্যা প্রবণতা দেখা যায়, অনেকের মধ্যে একটা অদ্ভুত লক্ষণ দেখা যায়- ঘুম খুব বেড়ে যায়, কিন্তু তারা কিছুতেই স্বীকার করতে চান না যে এতক্ষণ ঘুমিযেছেন, অনেকে আবার ইমসমনিয়ার শিকার হন, কেউ কেউ সারক্ষণ অন্ধকারে থাকতে পছন্দ করেন, কারও ক্ষেত্রে খাওয়া দাওযা খুব বেড়ে যায়, কেউ কেউ আবার খাবার খেতেই চায় না, অবসাদের ফলে কোনও কারণ ছাড়াই ওজন বেড়ে বা কমে যেতে পারে, অনেকের ক্ষেত্রে যৌন ইচ্ছা একেবারেই চলে যায়।

ডিপ্রেশন থেকে কি অন্য কোনও গুরুতর সমস্যা তৈরি হতে পারে?

দীর্ঘদিন যদি কেউ অবসাদে ভোগেন, তাঁর মধ্যে আরও নানা রকম মানসিক সমস্যা তৈরি হয়। অনেকের ম্যানিয়া চলে আসে যা প্রাত্যহিক জীবনে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রেই ডিপ্রেশন থেকে সোমাটোফ্রম ডিসঅর্ডার হয়ে যায়। মানে, নানারকমের শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে থাকে। যেমন- মাথাব্যাথা, হাতে, পাযে, গাঁটে ব্যাথা, গ্যাস, অম্বলের সমস্যা ইত্যাদি। সমীক্ষায় এটাও দেখা গিযেছে যে, অনেক বড় বড় রোগের মূলেও আসলে রযেছে মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশান। সবচেয়ে বড় কথা, ডিপ্রেশন এমন একটা রোগ, যেটা ভেতরে ভেতরে শরীরকে ক্ষয় করে দেয়। ফলে জীবনীশক্তি কমে যায়। তাই ডিপ্রেশনের সঠিক চিকিতসা না হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আর আগেই বলেছি, ডিপ্রেশনে আত্মহত্যার ঘটনা প্রচুর।

ডিপ্রেশনের চিকিৎসা কি?

ডিপ্রেশনের চিকিতসায় ওষুধ এবং কাউন্সেলিং দুটোরই ভূমিকা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। তবে ওষুধের ক্ষেত্রে একটা কথা মনে রাখতে হবে, এই ধরণের রোগীরা একেবারেই ওষুধ খেতে চায় না, কারণ ওদের কোনও রোগ আছে সেটা ওরা মানতেই চায় না। এক্ষেত্রে বাড়ির লোকের একটা বড় ভূমিকা আছে। দেখা গিযেছে, যাদের বাড়ির লোকেরা দায়িত্ব নিয়ে ওষুধটা নিয়ম করে খাওয়ান, তাদের ক্ষেত্রে সেরে ওঠার সম্ভাবনা বেশি। কাউন্সেলিংএর ক্ষেত্রেও আমরা বলি, রোগীর পাশাপাশি বাড়ির লোকেরও কাউন্সেলিং দরকার। সঠিক ভাবে চিকিতসা হলে ডিপ্রেশন থেকে পুরোপুরি বেরিযে আসা সম্ভব। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে ডিপ্রেশন এমন একটা রোগ, সেরে গিয়েও আবার ফিরে আসার সম্ভবনা থেকেই যায়।ফলে সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ নিয়ে পাঠকদের উদ্দেশ্যে পরামর্শ

মনে রাখবেন, মানসিক অবসাদ কিন্তু বড় কোনও রোগের থেকে কম ভয়ংকর কিছু নয়। সুতরাং যদি দেখেন, দীর্ঘদিন ধরে মন ভাল নেই, কাজকর্মে মন বসছে না, তাহলে অবশ্যই একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অনেক সময় যিনি অবসাদের শিকার, তিনি নিজে কিছুতেই সমস্যাটা বুঝতে বা স্বীকার করতে চান না, এক্ষেত্রে বাড়ির লোকেদের কিন্তু একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। কোনো ব্যাক্তির ভেতরে ডিপ্রেশনের লক্ষণ দেখা গেলে, বাড়ির লোকের উচিত দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া।

Share on facebook
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp