Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype

অনিয়মিত পিরিয়ড একটি প্রচলিত সমস্যা। যে কোনো বয়সের নারীদেরই এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অবিবাহিত নারীদের। কিন্তু এই অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ কি ? আসুন জেনে নেওয়া যাক এই অনিয়মিত পিরিয়ড হওয়ার পেছনের কিছু কারণ এবং তার চিকিৎসা সম্পর্কে।

অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ কি ?

প্রথমে শুরু করা যাক বাচ্চাদের নিয়ে। অনেক সময় টিনএজআর-দের মধ্যে অনিয়মিত পিরিয়ড বা দেরি দেরিতে পিরিয়ড দেখা যায়।  যদি একটি মেয়ের ১২ বছর বয়স থেকে পিরিয়ড হওয়া শুরু হয় তবে প্রথমে অনিয়মিত পিরিয়ড দেখা দিতে পারে, সেক্ষেত্রে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কিন্তু পরবর্তী কালে যদি কারোর এমনটা চলতেই থাকে সেক্ষেত্রে দেখতে হবে তার হরমোনাল ডিজব্যালান্স হছে কি না? যেমন- থাইরয়েড হরমোন, প্রোল্যাকটিন হরমোন, পলিসিসটিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম, যেটা আজকাল দিনে দিনে খুবই বাড়ছে, এছাড়া যারা খুব এক্সারসাইজ করেন, যাদের ওজন খুব বেড়ে গেছে অথবা খুব কমে গেছে তাদের ক্ষেত্রেও এগুলো দেখা যায়।

অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ
অনিয়মিত পিরিয়ডের কারণ

যাদের অতিরিক্ত পিরিয়ডের সমস্যা থাকে তাদের কি কারন?

এক্ষেত্রে একাধিক কারন রয়েছে। যেমন- PCOS থেকে এটা হতে পারে, এছাড়া কিছু সাধারন কারন থাকতে পারে-

  1. Adenomyosis,
  2. Endometriosis
  3. Fibroids
  4. Pelvic adhesions
  5. Pelvic inflammation

অতিরিক্ত পিরিয়ডের সাথে পেট ব্যাথার কারনেও কি বিভিন্ন সমস্যা আসতে পারে?

খুব বেশি পিরিয়ড হলে ভেতরে ক্লট তৈরি হয়, সেই ক্লট যখন ইউটেরাসের সরু মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে তখন ব্যাথা হয়। Adenomyosis এবং Endometriosis-এর সমস্যা যাদের আছে তাদের ক্ষেত্রে ব্যাথা এবং অতিরিক্ত পিরিয়ড দুটোই দেখা যায়।

রোগটি শনাক্ত কি করে করা যাবে?

প্রাথমিকভাবে একটা ইউ এস জি, তারপর একটা হরমোনাল প্রোফাইল চেক। যাদের বেশি এবং অনিয়মিত পিরিয়ড হছে সেক্ষেত্রে Pap smear, ৪০ বছরের উর্ধে এরকম লক্ষণ থাকলে Endometrial biopsy test আবশ্যক।

চিকিৎসা-

এক্ষেত্রে সমস্যার ধরনগুলো বুঝতে হবে । যার PCOS সমস্যা রয়েছে তার লাইফস্টাইল মডিফিকেসন অনুযায়ী চিকিৎসা করা উচিত। যার থাইরয়েডের জন্য বেশি পিরিয়ড হছে তাকে থাইরয়েডের ওষুধ দেওয়া, কারো যদি ফাইব্রয়েড থাকে সেক্ষেত্রে ফাইব্রয়েড বাদ দেওয়া হয়।  অনেক সময় ইউটেরাসের ভেতরে পলিপ থাকে সেক্ষেত্রে Hysteroscope-এর মাধ্যমে পলিপটিকে বাদ দেওয়া হয়।  Endometriosis-এর সমস্যা যার আছে সেক্ষেত্রে তার ফ্যামিলি সম্পূর্ণ হলে Hysterectomy, ফ্যামিলি সম্পূর্ণ না হলে Laparoscopy করে জিনিসটাকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। GnRH নামে একধরনের ইনজেকশন আছে যা দিয়ে Endometriosis-কে সাপ্রেস করা যায়, সেই ওষুধ দীর্ঘদিন দিয়ে রাখা। Pap Smear-এ যদি কোনো সমস্যা আসে বা Endometrial biopsy-তে যদি কোনো সমস্যা আসে, যেটা ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে সেক্ষেত্রে ডাক্তারদের ভূমিকা বেড়ে যায়।

এবার আসি ফাইব্রয়েডের ব্যাপারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি সামান্য ওষুধ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগীর চাহিদা এবং ঝুঁকির ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা করা হয়।

চিকিৎসার পর কি ইনফার্টালিটি বা অন্য কোনো সমস্যার ভয় কি থেকে যায়?

PCOS-এর ক্ষেত্রে সাবফার্টালিটি দেখা জেতে পারে। যদি থাইরয়েডের রোগী নিয়মিত থাইরয়েডের ওষুধ খেতে থাকে তবে কোনো ভয় নেই। কিন্তু থাইরয়েড সমস্যা বন্ধ হয়ে গেলেও রোগী যদি থাইরয়েডের ওষুধ নেওয়া বন্ধ করে দেয় সেক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশ কিছু ক্ষেত্রে রোগী মা হতে চাইছেন কি না, সেই বুঝে চিকিৎসা করা হয়।

মেনোপজের পর ব্লিডিং সমস্যা হলে কি করা উচিত?

মেনপজ হয়ে গেছে এমন কোনো মহিলার যদি বছর খানেক পর হটাৎ ব্লিডিং শুরু হয় তবে সেটা ভয়ের কারণ। সেক্ষেত্রে Endometrial biopsy এবং Endometrial thickness by trans-vaginal sonography measure করতেই হবে। কারণ পোষ্ট-মেনোপজের ক্ষেত্রে ক্যান্সার ধড়া পড়ার ভয় থেকেই যায়। একটা ২২ বছরের মেয়ের অনিয়মিত পিরিয়ডটা হরমোনাল ব্যাপার, কিন্তু একটা ৫২ বছর বয়সী মহিলার অনিয়মিত পিরিয়ড হওয়া কিন্তু অনেক বেশি ভয়ের ব্যাপার।

পিরিয়ডিক সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের উপদেশ-

সেরকম সমস্যা বুঝলে তাড়াতাড়ি ডাক্তার দেখান। জেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কিনা। কোনো সমস্যা না হোলে সাধারন কিছু ওষুধ নিয়ে সুস্থ থাকতে পারেন, কিন্তু কোনো ভয়ের কারণ আছে কিনা অবশ্যই জেনে নিতে হবে।

Share on facebook
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp