Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype

শিশুরা পৃথিবীতে আসার পর কান্না দিয়ে নিজের অস্তিত্বর জানান দেয়। পরে আবার সেই কান্নাতেই সবাইকে অতিষ্ঠ করে তোলে। কিন্তু শিশুর কান্নার কারণ এবং কান্না থামানোর উপায় যদি কোনও বাবা-মার কাছে আগে থেকেই জানা থাকে তাহলে শিশু প্রতিপালনে যেমন সুবিধে হয় তেমনি বাবা-মার সমস্যাও অনেকাংশে লাঘব হয়। যদিও এটা জানার জন্য কোনও ম্যাজিক জানার প্রয়োজন নেই। শুধু ঠান্ডা মাথায় একটু বুদ্ধি প্রয়োগ করলে আপনি সহজেই আপনার সন্তানের কান্না থামাতে পারবেন।

শিশুর কান্নার কারণ

শিশুরা অবোধ। কথা বলতে পারে না বলেই তারা কাঁদে। কান্নাই তাদের ভাষা। তাই কেন কাঁদছে তার কারণ আপনাকেকেই খূঁজে বের করতে হবে। গভীরভাবে তার ভাষা আপনাকেই বুঝে নিতে হবে।বড়দের ক্ষিদে পেলে, ব্যাথা পেলে, ঘুম পেলে, গরম লাগলে, শীত করলে কিংবা শরীর খারাপ হলে খুব সহজেই তা মুখে প্রকাশ করতে পারে কিন্তু এটি একটি শিশুর পক্ষে সম্ভব নয় তাই তাঁর সমস্ত রকম বিরক্তি বা কষ্ট, কান্নার মাধ্যমেই প্রকাশ করে।

কান্না থামানোর উপায়

(১) শিশুদের কান্নার প্রথম কারণই হল ক্ষিদে পাওয়া সুতরাং তার ক্ষিদে মেটাবার ব্যবস্থা সময়মত করলেই সমস্যার সমাধান।  

(২) ভিজে ডায়াপার, শিশুরা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। কথা বলতে না পারলে কি হবে, এই বিষয়ে ওরা এতটাই খুঁতখুঁতে যে, যতক্ষণ না পর্যন্ত ডায়াপার বদলে দেওয়া হবে ততক্ষণ ওরা কেঁদেই যাবে।

(৩) শিশুর অ্যালার্জি থেকে শুরুতেই সাবধান হোন। আর এই অ্যালার্জি কিন্তু মা’র থেকেই হতে পারে। কারন আপনার সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর যে খাদ্য গ্রহন করছেন, সেটাই আপানার বুকের দুধে আসছে। যা আপনার শিশুর উদরে অহেতুক চাপ তৈরি করছে। সে ওই চাপ সহ্য করতে পারছে না। এই অবস্থা বেশিদিন চলতে থাকলে আপনার শিশু গরুর দুধ, বাদাম, গম এবং অন্য খাবারের ওপরেও অ্যালার্জিক হয়ে পড়বে। আপনি যদি মনে করেন, খাবারের ওপর আপনার শিশুর অ্যালার্জি আছে, তাহলে দেরি না করে আপনার পেডিয়াট্রিসিয়ান বা শিশু চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। আপনি যদি সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ পান করান তবে ডাক্তারবাবু হয়ত আপনাকে কোনও একটি খাবার(দুধ অথবা ডিম) এক সপ্তাহর জন্য বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়ে শিশুর প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করতে পারেন।

(৪) আপানার শিশু যদি কোনও ভাবে ঘুমোতে অস্বাছন্দ্য বোধ করে তাহলেও কিন্তু সে কাঁদতে পারে। অতএব তার ঘুমানোর অবস্থান, বালিশ এবং বিছানার উপর বিশেষ নজর দিন।

(৫) সন্ধ্যেবেলার পেট ব্যথা। ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Evening Colic. সারা দিনের পর সন্ধ্যায় মা-বাবা যখন ক্লান্ত থাকে তখনই শিশু কান্না জোড়ে। সারা দিনে ৩ ঘন্টা, সপ্তাহে ৩ দিন। এভাবেই তার কান্না মোটামুটি ৩ সপ্তাহ চলে। Evening Colic জন্য বেশ কিছু ওষুধ আছে প্রয়োজনে আপনার ডাক্তারবাবুর থেকে জেনে নিন এবং এটিকে একটি এমারজেন্সি ওষুধ হিসেবে অন্তত ৬মাস ঘরে রাখুন। তবে মনে রাখবেন এটি কোনও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা নয়।

এরপরেও বেশি দিন এই সমস্যা চলতে থাকলে দেরি না করে আপনার শিশু চিকিৎসকের সঙ্গে অবশ্যই কথা বলুন।                        

Share on facebook
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp