Search
Close this search box.

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে নিজেকে খুঁজে নেওয়াই হোক সমস্যা সমাধানের প্রথম ধাপ

মৃত্যুও জন্মের মত একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ার সাহায্যে একজন মানুষের অস্তিত্ব ধংস হয় এবং পৃথিবীতে জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় থাকে । পৃথিবীতে যেমন মানুষের জন্ম হয়েছে তেমন মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এবং হবে । যদিও যে কোনো ধরনের  মৃত্যুই  বেদনাদায়ক তবু মৃত্যুর পেছনে যে কারণগুলি রয়েছে সেই কারণ গুলির মধ্যে কিছু কারণ আছে যেগুলো একটু  স্বাভাবিক  ( যেমন বার্ধক্যজনিত কারন  ) এবং কিছু কারণ আছে যেগুলো অস্বাভাবিক এবং অকল্পনীয় ( যেমন দুর্ঘটনাজনিত কারন ) । এই অস্বাভাবিক এবং অকল্পনীয় মৃত্যুর কারণ গুলির মধ্যে আত্মহত্যা হল সবচেয়ে বেশি বেদনাদায়ক এবং হতাশাজনক । আপনি জানলে অবাক হবেন যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) এক সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্ব জুড়ে  ৮০০,০০০ জন পুরুষ এবং মহিলা আত্মহত্যা করেন যা  মৃত্যুর অন্যান্য কারন গুলির ( যেমন ম্যালেরিয়া, স্তন ক্যান্সার, যুদ্ধ) থেকে অনেক এগিয়ে । বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান আত্মহত্যা প্রবনতার  বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে ২০০৩ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন ফর সুইসাইড প্রিভেনশন (IASP) , বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ (WFMH)  এর যৌথ উদ্যোগে প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর কে “ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস “ হিসেবে ঘোষণা করেন ।

আত্মহত্যা নিয়ে কিছু কথা –কিছু জানা কিছু অজানা

  • বিশ্বজুড়ে প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন এবং প্রতিবছর ৮০০,০০০ জন আত্মহত্যা করে মারা যান।
  • বিশ্বজুড়ে পুরুষদের আত্মহত্যাজনিত মৃত্যুর হার মহিলাদের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশী ।
  •  ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি) এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ২০১৯ সালে প্রতিদিন গড়ে ৩৮১ জন আত্মহত্যা করেছেন  এবং সারা বছরে  ১,৩৯,১২৩  আত্মহত্যা করে  জন মারা গেছেন ।
  • ভারতে আত্মহত্যার দিক দিয়ে মহারাষ্ট্র ১ম (১৩.৬ %), তামিলনাড়ু ২য় (৯.৭ %), এবং পশ্চিমবঙ্গ ৩য় (৯.১%) স্থানে  রয়েছে  ( As Per Accidental Deaths & Suicides in India 2019 ) ।
  • ভারতে প্রতি ঘন্টায় একজন ছাত্র আত্মহত্যা করে (Hindustan Times, MAY 08, 2017) ।
  • ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গে ১২৬৬৫ জন আত্মহত্যা করেন (As Per Accidental Deaths & Suicides in India 2019).
  • পেশাগতদিক দিয়ে দেখলে ভারতে মোট আত্মহত্যার মধ্যে ১০.১% বেকার , ১১.৬% সেলফ এমপ্লয়েড, ১৫.৪% গৃহ বধু , সরকারী এবং বেসরকারী  বেতনভোগী ৯.১% ,কৃষক ৭.৪% ,রিটায়ার্ড বয়স্ক  ব্যক্তি ০.৯% ,দৈনিক মজুরি উপার্জনকারী ২৩.৪%,  ছাত্র ৭.৪ %  এবং অন্যান্য ১৪.৭%  (As Per Accidental Deaths & Suicides in India 2019 )।

আত্মহত্যার কারণ কি?

রক্তে মাংসে গড়া মানুষকে পৃথিবীর অন্যান্য জীব থেকে যে বিষয় গুলো আলাদা করে রাখে তা হল মানুষের চিন্তা ভাবনা , যা অন্য প্রাণীদের দ্বারা সম্ভব নয় ।  সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ দাবী করা  মানুষ তাঁর চিন্তা ভাবনা কে কাজে লাগিয়ে  আধিপত্য বিস্তারের নেশায়  সমুদ্র তলাদেশ থেকে শুরু করে মহাকাশে দুরদুরান্তের গ্রহ-নক্ষত্রের উপর গবেষণা চালিয়ে চলেছে , নিয়ন্ত্রন করতে পেরেছে  সমগ্র বাস্তুতন্ত্রের জীবকুল কে । কিন্তু এতো শ্রেষ্ঠতা থাকা সত্বেও মানুষ  বড্ডই আবেগ প্রবন, মানুষ তাঁর ভাবাবেগকে  আজও  নিয়ন্ত্রন করতে পারে নি । নিজের ভাব এবং আবেগ কে সঠিক জায়গায় ব্যাবহার করতে শেখেনি । আর এই ভাব এবং আবেগের অপরিকল্পিত ব্যবহারই হয়তো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আত্মহত্যার কারন। এমন নয় যে পৃথিবীতে শুধুমাত্র  অভাব অভিযোগের বশবর্তী হয়ে মানুষ আত্মহত্যা করেন , কেননা আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে সেলেব্রেটি, ব্যবসায়িক এবং হাই প্রফাইল ব্যক্তিত্বের সংখ্যা নেহাত কম নয়। যদিও  আত্মহত্যার পেছনে  শারীরিক , মানসিক , আর্থিক , সামাজিক, এরকম  হাজারো কারন থাকতে পারে তবু  এর মধ্যে থেকে কিছুটা খুব সাধারন ভাবে তুলে ধরার চেস্টা করছি ।

আত্মহত্যার-কারণ
  • বিশেষত আবেগের বশে নেওয়া সিধান্ত  আর একশন প্ল্যানের মধ্যে সামঞ্জ্যস্ব না থাকায় কোন  ব্যাক্তি মানসিক  চাপের শিকার হন  এবং  এই মানসিক চাপের মধ্যে  দীর্ঘদিন  থাকার পরও যখন সমস্যার সমাধান হয় না তখন ওই ব্যক্তি অবসাদ বা ডিপ্রেশনে চলে যেতে পারেন এবং এই অতিরিক্ত মানসিক চাপ আত্মহত্যার কারণগুলির মধ্যে অন্যতম ।
  • হঠাৎ করে অপরিনত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে জীবনের অন্যান্য দিকগুলকে গুরুত্ব না দেওয়ার ফলে নিজের  ক্যরিয়ার এবং সম্পর্ক অসুরক্ষিত  হয়ে যেতে পারে ,এমনকি  ব্যপারটা কখনও কখনও আত্মহত্যা পর্যন্ত গড়িয়ে যায় ।
  • কোনও ব্যাক্তি নিজের কোন বিশেষ স্বপ্ন বা লক্ষ্য ( যেমন পরীক্ষায় ফেল করা , ব্যাবসা লাভজনক নাহওয়া )  পুরনে ব্যর্থ হয়ে আবেগের বশে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন ।
  • সংসারিক অশান্তির এবং দাম্প্যত কলহের কারনেও অনেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ।
  • আত্মহত্যার পেছনে দারিদ্রতাও এক অন্যতম কারন । ২০১৩ সালের টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে প্রকাশ প্রতি বছর লোন পরিশোধ না করতে পেরে ভারতে ১২০০০ জন কৃষক আত্মহত্যা করেন ।
  • নারী পুরুষের মধ্যে সামাজিক বৈষম্য নারী বা পুরুষের আত্মহত্যার কারণ হতে পারে ।
  •  কখনো কখনো আত্মহত্যার প্রবনতা বংশগত দিক থেকেও হতে পারে ।
  •  নেশা সামগ্রী যেমন ড্রাগস এবং বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্য, জুয়া ইত্যাদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আত্মহত্যার কারন হতে পারে ।
  • ভয়, হুমকি, র‍্যাগিং, শারীরিক অত্যাচার এর কারনেও আত্মহতা করতে দেখা যায় ।

মোট কথা একজন ব্যক্তি সে পুরুষ হোক বা মহিলা, কর্মজীবী অথবা বেকার সে  যখন জীবনের কোনো উদ্দ্যেশ্য খুঁজে পায় না তখন একটা সময় পরে সে অবসাদে ভুগতে শুরু করে আর এই অবসাদ  থেকে মুক্তির পথ না পেয়েই কোনো ব্যক্তি  আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ।

আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায়

যেহেতু আত্মহত্যার পেছনে কোনও না কোনও ভাবে ডিপ্রেশন দায়ী সেহেতু ডিপ্রেশন কে এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করুন , যদিও এটা মোটেও সহজ কাজ নয় । আপনি জেনে অবাক হবেন যে শুধুমাত্র ভারতেই ৩০ কোটীর উপরে মানুষ রয়েছেন যারা ডিপ্রেশনের শিকার। ডিপ্রেশনকে এড়াতে হলে প্রথমে আপনাকে এটা  বুঝে নিতে হবে যে ব্যর্থতা ,অশান্তি, ঝগড়া, বিবাদ, ক্ষতি ,অসুস্থতা ,দুর্যোগ ইত্যাদি সমস্যা গুলো সবার জীবনে আসে এবং এটা জীবনেরই একটা প্রয়োজনীয় অংশ আর  একে চ্যালেঞ্জ করেই জীবনে সফলতা পেতে হবে । ডিপ্রেশন কে এড়িয়ে চলতে অথবা ডিপ্রেশন থেকে নিজেকে উঠিয়ে নিয়ে আসতে    নিচের টিপস গুলো ফলো করতে পারেন –

  •  দিনের শুরুটা সোশ্যাল মিডিয়া, টিভি, খবরের কাগজ এর পরিবর্তে  পজিটিভ কিছু করুন যেমন- ব্যায়াম , মেডিটেশন, পজেটিভ সেলফটক অথবা সেলফ ডেভেলপমেন্ট এর মতন বই পড়া দিয়ে শুরু করুন ।
  • প্রতিদিন সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন, কারন দৈনন্দিন জীবনের খাবার-দাবার আমাদের শারীরিক এবং মানসিক অবস্থায় জন্য দায়ী ।
  • ছাত্র হলে পড়াশোনাকে প্রাথমিকতা দিয়ে অন্যান্য কাজ করুন ।
  • পজিটিভ মানসিকতা, পারিবারিক এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সাপোর্টিভ ব্যক্তিদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করুন ,কারন তারাই আপনাকে জীবনে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করবেন ।
  • নিজের ব্যক্তিগত জীবন এবং কর্মজীবন কে আলাদা কিন্তু পরস্পর সম্পর্কযুক্ত ভাবে দেখুন ।  মনে রাখবেন ভালো ভাবে বেঁচে থাকতে  জীবনে দুটোরই সমান গুরুত্ব রয়েছে ,একদিক ছাড়া আর একদিক চালানো সম্ভব নয় , তাই অফিসের কাজ কর্ম অফিসে এবং ঘরের কাজকর্ম ঘরে মিটিয়ে নেওয়াই শ্রেয় ।
  • জীবনে সমস্যার সম্মুখীন হওয়া খুবই সাধারন ব্যাপার তাই যে কোন ধরনের সমস্যা কে নিজের মধ্যে না রেখে এই বিষয়ে যারা আপনাকে ভালভাবে বোঝে তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন অথবা এক্সপার্টদের সঙ্গে কথা বলুন ।
  • সবকাজে হ্যাঁ বলা থেকে বিরত থাকুন , হ্যাঁ বলার আগে ভেবে নিন প্রয়োজনে সরাসরি না বলুন ।
  • অন্যদের নিয়ে সমালোচনা, ছোটোখাটো ব্যাপারে অভিযোগ অযথা যুক্তি তর্কের মধ্যে নিজেকে সামিল করবেন না বরং নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেশিকরে সময় কাটান । প্রয়োজনবোধে মাঝে মাঝে পরিবারের সকলকে নিয়ে কথাও ঘুরে আসুন আনন্দ করুন ।
  • রাতে ঘুমের আগে অকাজে সোশ্যাল মিডিয়া, টিভি ইত্যাদির পেছনে সময় নষ্ট না করে পুরো দিনের কাজকর্মের কথা একটু ভবে নিন এবং পরের দিনের জন্য প্রস্তুতি নিন , অবাঞ্ছিত ঝামেলাগুলো ভুলে যান , যারা কটু ব্যবহার করেছে তাদের ক্ষমা করে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ুন ।
  • নিজেকে কোন সামাজিক সংস্থা অথবা ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত রেখে বিনামুল্যে কিছু কাজ করার চেষ্টা করুন তাতে আপনার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সম্মান বৃদ্ধি পাবে ।
আত্মহত্যা থেকে বাঁচার উপায়

মনে রাখবেন , আপনার মানসিক শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব কিন্তু আপনার । মানসিক অশান্তি নিয়ে কেউই বেশীদূর এগিয়ে যেতে পারে না , তাই  সবার স্বার্থে নিজের ওপর সর্বোচ্চ যত্নবান হোন ।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে অভিভাবকদের করণীয়
  • ছোটবেলা থেকেই ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক রাখুন । কারন আপনি যখন একজন বন্ধুর মতো সহজ সরল ভাবে আপনার ছেলে মেয়েদের সঙ্গে মিশবেন তারা আপনাকে জীবনের প্রায় সব কথাই জানাবে, তাতে আপনার সন্তানদের সঙ্গে কমিনিকিউশন গ্যাপ থাকবে না যে কারনে  আপনি সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ এবং পদক্ষেপ নিতে পারবেন ।
  • ছোটরা ভুল কাজ করলে প্রথমেই রাগান্বিত না হয়ে আগে ওদের কথা শুনে নিন  এবং যত্নসহকারে সমাধান ভিত্তিক শাস্তি দিন । মনে রাখবেন অতিরিক্ত ভালবাসা কিংবা শাসন দুটোই বিপজ্জনক , তাই ভারসাম্য বজায় রাখুন ।
  • নিজের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, কেরিয়ার এবং বিয়ের ব্যপারে ওদের  ইচ্ছে কে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করুন ।
  • হঠাত কোন অস্বাভাবিক আচরণ যেমন নিদ্রাহীনতা , খাবার খেতে না চাওয়া , সারাদিন একা থাকার অভ্যাস হয়ে যাওয়া , বিরক্তি প্রকাশ , ইত্যাদি  পরিলক্ষিত হলে  খোলামেলা মন নিয়ে আলোচনায় বসুন এবং প্রয়োজনে মনোবিদের সাহায্য নিন ।
আত্মহত্যা প্রতিরোধে একজন মনবিদের ভূমিকা

একজন মনবিদ সাধারনত কাউন্সিল এর দ্বারা রোগীর চিকিৎসা করে থাকেন যেমন –

  • কঞ্জিটেটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি – এই থেরাপিতে রোগির অতীত জীবনের ঘটনাবলী সম্পর্কে জেনে নেওয়া হয়। এই ঘটনাগুলী রোগির জীবনে কিরকম প্রভাব ফেলেছে তার গুরুত্ব বুঝে সমস্যার সমাধান করা হয়।
  • ইন্টারপারসোনাল থেরাপি – এই ধরনের কাউন্সেলিং-এ রোগীর ব্যাক্তিগত জীবন ও সম্পর্কের সম্বন্ধে জেনে কাউন্সেলিং করা হয়। ব্যাক্তিগত জীবনের প্রভাবে যদি রোগী ডিপ্রেশড্ থাকেন তাহলে এই কাউন্সেলিং তার সহায়ক হবে।
  • সাইকোডাইনামিক সাইকোথেরাপি: – এই কাউন্সেলিং-এ রোগীর সাথে কথাবর্তার মাধ্যমে তার মানসিক অবস্থা বুঝে, তার চিন্তাভাবনা, মনের ভাব বুঝে তার সমস্যার সমাধান করা হয়।
সাবস্ক্রাইব করুন

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর, তথ্য এবং চিকিৎসকের মতামত আপনার মেইল বক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন.

Table of Contents

আমাদের সাম্প্রতিক পোষ্ট গুলি দেখতে ক্লিক করুন

আমাদের বিশিষ্ট লেখক এবং চিকিৎসক