পুরুষদের লিঙ্গ শিথিলতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

পুরুষদের লিঙ্গ শিথিলতা দূর করার ঘরোয়া উপায় খুঁজে থাকেন একাংশ পুরুষ, কারণ এই সমস্যায় আক্রান্ত পুরুষদের মধ্যে অধিকাংশই ডাক্তারি পরামর্শ নিতে লজ্জাবোধ করেন। বর্তমান পৃথিবীতে লিঙ্গ শিথিলতা বা ইরেক্টাইল ডিসফাংশন নামক শারীরিক সমস্যাটি প্রতিনিয়ত বাড়ছে লাফিয়ে। ভারতবর্ষে  চল্লিশ বছরের নীচে থাকা ৩০% পুরুষ এই রোগের শিকার। যার জেরে অচিরেই শেষ হয়ে যায় যৌন জীবন।

পুরুষ হোক বা নারী — যৌন সমস্যা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা করতে দ্বিধা বোধ করেন অনেকেই। এমনকি ডাক্তার দেখাতেও লজ্জা বোধ করেন। যৌন সমস্যাকে অনেকেই নিজের দুর্বলতা মনে করেন, আর এর ফলে গ্রাস করে হীনমন্যতা। খোলাখুলি আলোচনা না করার কারণে অজানা থেকে যায় অনেক কিছু, আর বাড়তে বাড়তে এই সমস্যাগুলিই একসময় শেষ করে দেয় জীবনের আনন্দ। শেষ করে দেয় একটা সম্পর্ক। আসলে যৌন সমস্যা গুলির বহু ক্ষেত্রেই মানুষ নিজেদের সমস্যা নিজেরাই ডেকে আনে কিছু বদ অভ্যাসের দ্বারা।

ইরেক্টাইল ডিসফাংশন বা লিঙ্গ শিথিলতা কী

যৌন মিলনের প্রথম শর্তই হলো, পুরুষের লিঙ্গের উত্থান ঘটা। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায়, মিলনের পূর্বে পুরুষের লিঙ্গের পর্যাপ্ত উত্থান ঘটছে না। কিংবা কারও ক্ষেত্রে উত্থান ঘটলেও, তা বেশিক্ষণ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। এর ফলে পরিপূর্ণ যৌন মিলনও সম্ভব হয় না। একজন পুরুষের লিঙ্গের এইরুপ উত্থানজনিত সমস্যাকেই বলা হয়ে থাকে ইরেক্টাইল ডিসফাংশন।

তবে মাঝেমধ্যে কোনো কারণ বশত পুরুষের লিঙ্গের উত্থানে সমস্যা হলেই এমনটা বলা যায় না যে তিনি ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের শিকার। এরকম বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু বিষয়টি তখনই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়,  যখন একজন পুরুষ ক্রমাগত এই সমস্যার সম্মুখীন হতে থাকেন। এর ফলে তারা মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন, শিকার হন মানসিক অবসাদেরও। এই অবস্থার কারণে তারা আত্মবিশ্বাসহীনতায় ভুগতে শুরু করেন।  এবং তাদের দাম্পত্য সম্পর্কও একরকম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। লিঙ্গের উত্থানে ব্যর্থতা কিংবা তা ধরে রাখতে না পারার পেছনে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যাও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পুরুষদের লিঙ্গ শিথিলতার কারণ কী?

উচ্চ রক্তচাপ

পুরুষের লিঙ্গ শিথিলতার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণই হলো উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন ৷ উচ্চ রক্তচাপ মানব শরীরের ধমনী গুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ৷ আর তা ক্রমেই ধমনীগুলিকে অনমনীয় করে তোলে এবং শরীরে রক্ত সঞ্চালন কমতে থাকে। শুধুমাত্র হৃদরোগ বা স্ট্রোকই নয়, উচ্চ রক্তচাপের ফলে পুরুষের যৌনাঙ্গেও রক্ত সঞ্চালন ব্যহত হয় ৷ ধমনীর মধ্যে দিয়ে সঠিক মাত্রার রক্ত সঞ্চালন যৌনাঙ্গের ঋজুতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায়  ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে লিঙ্গ শিথিলতার সমস্যা দেখা দেয় ৷

স্থূলতা

 স্থূলতা পুরুষের লিঙ্গ শিথিলতার জন্য ভীষণ ভাবে দায়ী, এমনটাই দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন গবেষণায়। শরীরের অতিরিক্ত ওজন মেদ হৃদপিন্ডের সমস্যার পাশাপাশি  শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে। কমে যায় এনার্জিও। ফলে দেখা দেয় লিঙ্গ শিথিলতার সমস্যা।

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগ অর্থাৎ ব্লাড সুগারের পরিমাণ বেশি হলে তা স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর ভীষণ ভাবে প্রভাব ফেলে ৷ যৌন চাহিদা হ্রাস পায়, এনার্জি নষ্ট হয়। দেখা দেয় লিঙ্গ শিথিলতা সহ যৌন জীবনে নানারকম সমস্যা ৷

ধুমপান মদ্যপান

ধুমপান

অতিরিক্ত ধূমপান করার ফলে, ইরেক্টাইল ডিসফাংশন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ধূমপান রক্তনালী গুলির ক্ষতি সাধন করে। এবং এর ফলে যৌনাঙ্গ সহ শরীরের সমস্ত অংশে রক্ত ​​সঞ্চালন ব্যাহত হয়, যার ফলে লিঙ্গের উত্থানে সমস্যা দেখা দেয়। তবে, ধূমপান ছেড়ে দিলে রক্ত ​​সঞ্চালনের উন্নতি হয়, এবং লিঙ্গ শিথিলতার সমস্যা দূর হয়।

একই ভাবে অতিরিক্ত মদ্যপানও লিঙ্গ শিথিলতার জন্য দায়ী৷

জাঙ্ক ফুড

প্রচুর পরিমাণে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার ফলে বাড়ে মেদ। আর এই মেদ কিন্তু লিঙ্গ শিথিলতার একটি অন্যতম কারণ।

দুশ্চিন্তা ও মানসিক অবসাদ

দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকলে বা মানসিক অবসাদে ভুগলে, তা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে, শরীর কোনও কারণেই কোনোরকম উত্তেজনায় আর সাড়া দিতে পারে না। আসলে, লিঙ্গ দৃঢ়তার সময় লিঙ্গে প্রচুর পরিমাণে রক্ত সঞ্চালিত হতে থাকে। কিন্তু, দুশ্চিন্তা বা অবসাদের কারণে এই রক্তপ্রবাহ পদ্ধতিতে বিঘ্ন ঘটে এবং লিঙ্গ শিথিলতা দেখা যায়।

কখন বোঝা যাবে যে লিঙ্গ শিথিলতার সমস্যা তৈরি হয়েছে?

যৌন সঙ্গীর সঙ্গে একান্ত ব্যক্তিগত পরিসরেও যৌন উত্তেজনাময় অবস্থাতেও যদি লিঙ্গ শিথিল থাকে, কোনোপ্রকার উত্থান না হয়, উত্থান হলেও তা যদি দীর্ঘস্থায়ী না হয়, কিংবা যৌন আকাঙ্খা হ্রাস পায় বা একেবারেই না হয়, তাহলে বুঝতে হবে সেই ব্যক্তির লিঙ্গ শিথিলতার সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে ৷

পুরুষদের লিঙ্গ শিথিলতা দূর করার ঘরোয়া উপায়

সর্ষের তেল

সর্ষের তেল

শিথিল লিঙ্গের দৃঢতা আনতে বিজ্ঞাপনী তেলের কোনো প্রয়োজন নেই। রান্নাঘরে থাকা সর্ষের তেলই যথেষ্ট। একটি পাত্রে মধ্যে সর্ষের তেল গরম করে, তার মধ্যে পরিমাণ মতো কালো জিরে দিয়ে দিন। দশ মিনিট ধরে তেলটা ফোটান, তারপর তা ঠান্ডা করে শিশিতে ঢেলে, তুলে রেখে দিন। প্রতিদিন অন্তত তিন থেকে চার বা সেটা মালিশ করতে হবে। একটানা অন্তত দু’মাস এটা নিয়মিত চালিয়ে যান। তাতে লিঙ্গের দৃঢ়তা ফিরে আসবে। তবে অবশ্যই মনে রাখবেন, এই দু’মাস শারীরিক মিলন বা হস্তমৈথুন একেবারেই করবেন না।

ওজন হ্রাস

অতিরিক্ত ওজন লিঙ্গ শিথিলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, তাই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে প্রথমেই শরীরচর্চা এবং ডায়েটের মাধ্যমে ওজনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে ৷ ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃদরোগের সমস্যাও দূরে থাকবে ৷ অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলতে পারলে মুক্তি পাওয়া যাবে এই জাতীয় সমস্যা থেকে।

কেগেল’স এক্সারসাইজ

ওষুধের পাশাপাশি ডাক্তাররা লিঙ্গ শিথিলতার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এই ব্যায়ামটি করতে বলেন ৷ বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পুরুষদের জন্য কেজেল ব্যায়াম যৌনমিলনের সময় লিঙ্গ উত্থানের সমস্যা, অকাল বীর্যপাত, শীঘ্র বীর্যপাতের মত সমস্যারও সমাধান করে।

ওষুধের প্রয়োগ

ওষুধ

লিঙ্গ শিথিলতার জন্য ডাক্তাররা মূলত যে ধরনের ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দেন,তা হলো —

Sildenafil (Viagra)

Tadalafil (Cialis)

Vardenafil (Levitra, Staxyn)

এছাড়াও টেস্টোস্টেরণের প্রয়োগ করা হয়। তবে মনে রাখতে হবে ওষুধ কার্যকরী হতে সময় লাগে ৷

পি শট ইঞ্জেকশন বা পিআরপি

৯০% মানুষের ক্ষেত্রেই ওষুধে সেরে যায় এই সমস্যা। তবে তা না হলে এই ইঞ্জেকশনটি পুরুষদের যৌনাঙ্গে প্রয়োগ করা হয় ৷ এটি ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের সমস্যাকে অনেকাংশেই প্রতিহত করে।

Recent Posts

আমাদের সাম্প্রতিক পোষ্ট গুলি দেখতে ক্লিক করুন

Cancer (ক্যান্সার)

ক্যান্সারের লক্ষণ ও তার চিকিৎসা

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার বা জরায়ুর ক্যান্সার- লক্ষণ ও চিকিৎসা

সমগ্র বিশ্বে, মহিলাদের মধ্যে যত রকম ক্যান্সার হয় তাদের মধ্যে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার বা জরায়ুর ক্যান্সার চতুর্থ । যদিও ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই …

থাইরয়েড ক্যান্সার এর লক্ষণ

 থাইরয়েড গলার গোড়ায়  একটি ছোট, প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি  যেখান থেকে  ট্রাইওডোথাইরোনিন (T3) এবং থাইরক্সিন (T4) হরমোন ক্ষরিত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় …