Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp

হাইপোথাইরয়েডিজম কেন হয় ? হাইপোথাইরয়েডিজম এর লক্ষণ এবং চিকিৎসা

হাইপোথাইরয়েডিজম হল এমন একটি শারীরিক অবস্থা যখন আমাদের দেহ পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন উৎপন্ন করতে পারে না । থাইরয়েড হরমোনগুলি – বৃদ্ধি, কোষ মেরামত এবং বিপাক নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে ।যে কারণে হাইপোথাইরয়েডিজম যুক্ত ব্যক্তিদের বৃদ্ধি বিপাক এবং অন্যান শারীরিক প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয় । ফলস্বরুপ এদের মধ্যে ক্লান্তি, চুল পড়া , ওজন বৃদ্ধি , শারীরিক দুর্বলতা এবং ডিপ্রেশন এর লক্ষণ দেখা যায় ।

হাইপোথাইরয়েডিজম এর লক্ষণ

হাইপোথাইরয়েডিজম সাধারনত বয়সের সঙ্গে সম্পর্ক যুক্ত, দেখা গেছে বেশির ভাগ ষাটোর্ধ বয়স্ক ব্যাক্তিরাই এর শিকার হন । আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশনের এর তথ্যানুযায়ী পুরুষ দের তুলনায় মহিলারাই এই সমস্যার  শিকার হন এবং প্রত্যেক আট জন মহিলার মধ্যে এক জন হাইপোথাইরয়েডিজম আক্রান্ত হবার সম্ভবনা বেশি।

হাইপোথাইরয়েডিজম কেন হয় ?

হাইপোথাইরয়েডিজম সাধারনত থাইরয়েড গ্রন্থির প্রদাহ “থাইরয়েডাইটিস” এর কারনে হয় । থাইরয়েডাইটিস একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার , এটি শরীরে এমন  অ্যান্টিবডি তৈরি করে যা থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে এবং ধ্বংস করে দেয় । হাইপোথাইরয়েডিজমের অন্যান্য কারন গুলো হল-

  • জন্মগত অস্বাভাবিকতা – কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিশু অপূর্ণ থাইরয়েড গ্রন্থি অথবা কোনও থাইরয়েড গ্রন্থি ছাড়াই জন্মগ্রহন করে এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনও অজানা কারনে থাইরয়েড গ্রন্থির সম্পূর্ণ বিকাশ হয় না তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি বংশগত কারনেও হতে পারে, যাকে জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজমও বলা হয় । জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম যুক্ত শিশুরা জন্মের সময় অন্যান্য শিশুদের মতোই স্বাভাবিক থাকে ।
  • থাইরয়েড গ্রন্থির অপারেশন – থাইরয়েড গ্রন্থি অপারেশন  হলে হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে , যদি থাইরয়েডের কিছু অংশ সরিয়ে নেওয়া হয় তবে অবশিষ্ট অংশ পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে সক্ষম হতে পারে ।
  • পিটুইটারি গ্রন্থির অস্বাভাবিকতা –  কখনো কখনো পিটুইটারি গ্রন্থির  কনও সমস্যা থাইরয়েড হরমোন উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে । পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (টিএসএইচ) যা থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন কে পরিচালনা করে ।
  • খাদ্যে পর্যাপ্ত আয়োডিনের অভাব – থাইরয়েড হরমোন তৈরি করতে আয়োডিনের প্রয়োজন হয় । শরীর নিজে থেকে আয়োডিন তৈরি করতে পারে না , এটি দৈনন্দিন খাবার দাবারের মাধ্যমে গ্রহন করতে হয় তাছাড়া আয়োডিন যুক্ত লবন এর মাধমেও এটি নেওয়া যায় । আয়োডিনের অন্যান্য খাদ্য  উৎসগুলির মধ্যে রয়েছে শেলফিস, লবণাক্ত জলের মাছ, ডিম,এবং দুগ্ধজাতীয় পণ্য ।
  • গর্ভাবস্থায় –  কিছু মহিলা গর্ভাবস্থায় অথবা তার পরে প্রসবত্তর হাইপোথাইরয়েডিজম হয় । এই সময় দেহে এমন এন্টিবডি যা থাইরয়েড গ্রন্থিকে ক্ষতিগ্রস্থ করে । সময় মতো চিকিৎসা না হলে হাইপোথাইরয়েডিজম গর্ভপাত, অকাল প্রসব এবং প্রিক্ল্যাম্পসিয়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায় ।
Stress during pregnancy
  • ওষুধ – বেশ কয়েকটি ওষুধ থাইরয়েড হরমোন উৎপাদন হ্রাস করতে পারে , যা হাইপোথাইরয়েডিজমের জন্য দায়ি । হৃদরোগ , ক্যান্সার এবং মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ যেমন লিথিয়াম, মাইটোটেন (লাইসোড্রেন) এবং অ্যামিওডেরন (পেসেরোন)  রোগী কে হাইপোথাইরয়েডিজমের দিকে পরিচালিত করে ।

হাইপোথাইরয়েডিজম এর লক্ষণ

হরমোন এবং অন্যান্য কারনের উপর নির্ভর করে  হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ ব্যক্তি বিশেষ ভিন্ন হতে পারে  , কিছু সাধারন লক্ষণ গুলি হল –

প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে

কিশোর কিশোরীদের ক্ষেত্রে

  •  বিলম্বিত  বয়ঃসন্ধি ।
  • মানসিক বিকাশ সঠিক ভাবে না হওয়া ।
  • শারীরিক দুর্বলতা ।

বাচ্চাদের ক্ষেত্রে

  • হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • অতিনিদ্রা
  • দুর্বল খাদ্যভ্যাস

হাইপোথাইরয়েডিজম এর চিকিৎসা –

হাইপোথাইরয়েডিজমের কোন স্থায়ী চিকিৎসা নেই তবে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চললে এর লক্ষণ গুলো প্রশমিত করা যায় । গর্ভাবস্থার পরে থাইরয়েডাইটিস এবং ভাইরাল থাইরয়েডাইটিস  জনিত হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত রোগী ছাড়া বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এই অস্বাভাবিক অবস্থা সারাজীবন থাকে । ডাক্তার সাধারনত প্রথমে রোগীকে থাইরক্সিন (T4)  এবং থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন (TSH)  টেস্টের কথা বলেন এবং এর রিপোর্ট অনুযায়ী রোগীর অসুধের ব্যবস্থা করেন । কখনো কখনো হাইপোথাইরয়েডিজম মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে এবং রোগীর থাইরক্সিন ডোজ  সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগী যদি প্রতিদিন ওষুধ নেয় এবং শরীরে থাইরক্সিন এর মাত্রা ধরে রাখতে পারে তাহলে লক্ষণ গুলি অদৃশ্য হয়ে থাকবে ।

হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর ডায়েট

ওষুধের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী যে সব খাবার গ্রহন করা যেতে পারে

  1. হাইপোথাইরয়েডিজম যদি আয়োডিনের অভাবে হয় তাহলে প্রতিদিন কিছু না কিছু আয়োডিন জাতীয় খাবার যেমন – লবণাক্ত জলের মাছ, ডিম,এবং দুগ্ধজাতীয়  পন্য গ্রহন করা প্রয়োজন । তাছাড়া এখন বাজারে আয়োডিন যুক্ত লবন পাওয়া যায় , যা দামেও সস্তা এবং সহজলভ্য ।
হাইপোথাইরয়েডিজম রোগীর ডায়েট
  1. সেলেনিয়াম, থাইরয়েড হরমোনগুলোকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে । তাই প্রতিদিনের  খাদ্যতালিকায়  সেলেনিয়াম সমৃদ্ধ খাবার (যেমন টুনা মাছ, ডিম এবং লেবু )যুক্ত করা প্রয়োজন ।
  1. সেলিনিয়াম এর মতো জিঙ্কও থাইরয়েড হরমোন কে সক্রিও রাখতে সাহায্য করে । জিঙ্কের উৎস হিসেবে ঝিনুক, মুরগী মাংস, শুয়োরের মাংস, বাদাম, মসুর ডাল, দই, ওটমিল এবং মাশরুম রাখা যেতে পারে ।

বিশেষজ্ঞদের মতে আয়োডিন, সেলেনিয়াম এবং দস্তা হাইপোথাইরয়েডিজমে আক্রান্তদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। যদি কোনও চিকিৎসক  আপনাকে সেগুলি গ্রহণের পরামর্শ না দেয় তবে আয়োডিন এবং সেলেনিয়াম পরিপূরকগুলি এড়িয়ে যাওয়া উচিত ।

সর্বশেষে এটাই বলব  যেহেতু হাইপোথাইরয়েডিজমে সম্পূর্ণ সুস্থতা লাভ করা সম্ভব নয় সেহেতু একজন চিকিৎসকের অধিনে থেকে তার পরামর্শ অনুযায়ী থাইরয়েড হরমোন কে নিয়ন্ত্রিত ভাবে পরিচালনা করাই হল সুস্থ থাকার সঠিক উপায় ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
সাবস্ক্রাইব করুন

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর, তথ্য এবং চিকিৎসকের মতামত আপনার মেইল বক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন.