Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp

লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ ও চিকিৎসা (Liver Cancer Symptoms & Treatment)

এই নিবন্ধে, আমরা লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ, এটি কিভাবে বিস্তারলাভ করে, এর চিকিৎসা কিভাবে সম্ভব এবং যে বিষয়গুলি এর ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে সেগুলি ব্যাখ্যা করা হল।

ক্যান্সার Liver Cancer

লিভার বা যকৃৎ আমাদের শরীরের সর্ববৃহৎ এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থি। প্রাথমিক পর্যায়ে লিভার ক্যান্সার, একটি ছোট্ট টিউমারের আকারে লিভারে শুরু হয়। পরবর্তী কালে এই টিউমারের কোষ বা ক্যান্সার কোষগুলির বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে এবং ক্যান্সারটি লিভার থেকে অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। আবার অনেক সময় দেহের অন্য অঙ্গের ক্যান্সারও লিভারে ছড়িয়ে পড়তে তবে চিকিৎসকরা লিভারের ক্যান্সার বলতে সেই ক্যান্সারকেই বর্ণনা করে থাকেন যেটির সূচনা লিভার থেকে।

লিভারের ক্যান্সার কয় রকমের হতে পারে? 

লিভার ক্যান্সারের প্রধান ধরণগুলি হল –

হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা/ Hepatocellular Carcinoma (HCC):-  প্রায় 80% শতাংশ এটি দেখা যায়। এই ক্যান্সার লিভারের হেপাটোসাইট কোষগুলিকে আক্রমণ করে। এটি লিভার থেকে শরীরের অন্যান্য অংশে যেমন অগ্ন্যাশয়, অন্ত্র এবং পেটে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এইভাবে ক্যান্সার অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে মেটাস্টাসিস বলে। অতিরিক্ত মদ্য পানের ফলে যাদের লিভার গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ তাদের মধ্যে এই ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেশি।

কোলাঙ্গিওকার্সিনোমা (Cholangiocarcinoma):- কোলাঙ্গিওকার্সিনোমা, যা সাধারণত পিত্ত নালীর ক্যান্সার হিসাবে পরিচিত। এটি লিভারের ছোট, নলের মতো পিত্ত নালীতে আক্রমণ করে। এই নালীগুলি হজমে সহায়তা করার জন্য পিত্তথলিতে পিত্ত বহন করে। পিত্ত নালীর ক্যান্সার সমস্ত ধরণের লিভার ক্যান্সারের প্রায় 10 থেকে 20 শতাংশ দেখা যায় । যখন ক্যান্সারটি লিভারের আভ্যন্তরীণ নালীকাগুলির অংশে শুরু হয়, তখন একে বলা হয় ইনট্রা-হেপাটিক পিত্ত নালীর ক্যান্সার। যখন ক্যান্সারটি লিভারের বাইরে নালীগুলির অংশে শুরু হয়, তখন একে এক্সট্রা-হেপাটিক পিত্ত নালীর ক্যান্সার বলে।

লিভার অ্যাঞ্জিওসারকোমা ( Liver Angiocarcoma) :-  লিভার অ্যাঞ্জিওসারকোমা লিভারের ক্যান্সারের একটি বিরল রূপ যা লিভারের রক্তনালীতে শুরু হয়। এই ধরণের ক্যান্সার খুব দ্রুত অগ্রসর হতে থাকে, তাই এটি সাধারণত অ্যাডভান্সড পর্যায়ে ধরা পড়ে।

হেপাটোব্লাস্টোমা :-  হেপাটোব্লাস্টোমা অত্যন্ত বিরল ধরণের লিভারের ক্যান্সার। এটি প্রায়শই শিশুদের মধ্যে, বিশেষত 3 বছরের কম বয়সীদের মধ্যে পাওয়া যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে হেপাটোব্লাস্টোমা সনাক্তকরণ হলে, তখন সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা 90 শতাংশের বেশি হয়।

সেকেন্ডারি লিভার ক্যান্সার: এটি এমন একটি ক্যান্সার যা দেহের অন্য কোথাও শুরু হয় এবং পরে ধীরে ধীরে লিভারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক লিভার ক্যান্সারের চেয়ে সেকেন্ডারি লিভার ক্যান্সার বেশি দেখা যায়।

লিম্ফোমা (Lymphoma):– এই ক্যান্সার শরীরের  প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে এই ক্যান্সারের সূচনা লিম্ফ নোডে হয় যা পরবর্তীকালে লিভারেও ছড়িয়ে পড়ে।

লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ কি ?

 সাধারণত রোগটি অ্যাডভান্সড পর্যায়ে না পৌঁছানো অবধি লিভার ক্যান্সারের লক্ষণগুলি ভালোভাবে প্রকাশিত হয় না। তবে যে উপসর্গ গুলি এর চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে সেগুলি হল –

লিভার ক্যান্সারের লক্ষণ
  • প্রথমে জন্ডিস ধরা পড়া, যেখানে ত্বক এবং চোখ হলুদ হয়ে যায়।
  • পেটে ব্যথা
  • ডান কাঁধের  কাছাকাছি ব্যথা
  • অস্বাভাবিক ভাবে ওজন হ্রাস
  • যকৃত অথবা প্লীহার বা উভয়েরই আকার বৃদ্ধি
  • বমি বমি ভাব
  • পিঠে ব্যাথা
  • চুলকানি
  • জ্বর
  • দুর্বল হজমশক্তি
  • তলপেটের দিকে ফোলাভাব বা তরল পূর্ণ ফোলা অংশের আবির্ভাব 
  • ক্লান্তিভাব

কোন কোন বিষয়গুলি লিভারে ক্যান্সারের ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে? 

এমন কিছু কারণ রয়েছে যা লিভারের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে:

 1. লিভার ক্যান্সার 50 বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।

  1. দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস বি বা সি সংক্রমণ আপনার লিভারের মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। হেপাটাইটিস সংক্রামিত ব্যক্তির শারীরিক তরল পদার্থ যেমন তাদের রক্ত বা বীর্যের সাথে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ে। যৌন মিলনের সময় সুরক্ষা ব্যবহার করলে হেপাটাইটিস বি এবং সি এর ঝুঁকি হ্রাস হতে পারে। প্রতিদিন অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় গ্রহণ লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
লিভার ক্যান্সার ও মদ্যপান
  1. সিরোসিস হ’ল লিভারের ক্ষতির একটি রূপ যাতে সুস্থ টিস্যুগুলি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যার ফলস্বরূপ লিভার সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না এবং শেষ পর্যন্ত লিভার ক্যান্সার সহ অসংখ্য জটিলতা দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদী অ্যালকোহল পান এবং হেপাটাইটিস সি সিরোসিসের সর্বাধিক সাধারণ কারণ। লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত বেশিরভাগ পুরুষ ও মহিলাদের লিভার ক্যান্সার হওয়ার আগে সিরোসিস হয়।
  2. ডায়াবেটিস এবং স্থূলত্বও এর ঝুঁকি গুলির একটি। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় স্থূল হয়ে থাকে, যা লিভারের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে এবং লিভারের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
লিভার ক্যান্সারের পর্যায় বা স্টেজগুলি কি কি? 

একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ক্যান্সারের প্রকৃতি এবং দেহের অন্যান্য অংশে বিস্তারলাভের উপর ক্যান্সারের পর্যায়গুলিকে ভাগ করে থাকেন। এই স্টেজিং বা পর্যায়গুলি I থেকে IV পর্যন্ত একটি নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়। ক্যান্সারের পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে রোগীর চিকিৎসার ধরন নির্ধারিত হয় ।

লিভার ক্যান্সার  নিম্নলিখিত পর্যায়গুলির অন্তর্ভুক্ত:

প্রথম পর্যায়: এই পর্যায়ে কেবল একটি টিউমার লিভারে পাওয়া যায়।

দ্বিতীয় পর্যায়:  টিউমার আস্তে আস্তে এটি রক্তনালীতে ছড়িয়ে পড়ে, বা টিউমারগুলির দৈর্ঘ্য সাধারণত 3 সেন্টিমিটারের চেয়ে কম হয়।

তৃতীয় পর্যায়: তৃতীয় পর্যায়ের লিভার ক্যান্সারে একাধিক টিউমার থাকে এবং এগুলি কমপক্ষে ৫ সেন্টিমিটারের চেয়ে বড় হয়, বা ক্যান্সারটি লিভারের বাইরে বড় রক্তনালী, অন্য অঙ্গ বা লিম্ফ নোডে ছড়িয়ে পড়ে।

চতুর্থ পর্যায়: ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে শরীরের অন্যান্য জায়গায় যেমন ফুসফুস বা হাড়ের পাশাপাশি লসিকা নোডেও।

লিভার ক্যান্সার কিভাবে নির্ণয় করা হয়?

লিভার ক্যান্সারের নির্ণয় রোগীর পূর্ববর্তী চিকিৎসার ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে এবং বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা দিয়ে শুরু হয়। রোগীর যদি দীর্ঘমেয়াদী মদ্যপানের অভ্যাস বা ক্রনিক হেপাটাইটিস বি বা সি সংক্রমণের ইতিহাস থাকে তবে আপনার ডাক্তারকে অবশ্যই তা নিশ্চিত করা দরকার।

লিভার ক্যান্সারের ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা এবং নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলির মধ্যে নিম্নলিখিত রয়েছে:

লিভার ফাংশন টেস্ট:-     লিভার ফাংশন টেস্টের মাধ্যমে রোগীর রক্তে প্রোটিন, লিভার এনজাইম এবং বিলিরুবিনের মাত্রা পরিমাপ করা হতে পারে যা লিভারের স্বাস্থ্য নির্ধারণ করতে সহায়তা করবে। 

রক্ত পরীক্ষা :- রক্তে আলফা-ফেটোপ্রোটিন (এএফপি) উপস্থিতি লিভারের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এই প্রোটিনগুলি সাধারণত জন্মগ্রহণের আগে শিশুদের যকৃতে তৈরি হয়। এএফপি উৎপাদন সাধারণত জন্মের পরে বন্ধ হয়ে যায়। লিভারের ক্যান্সারে এএফপি স্তর স্বাভাবিকও থাকতে পারে। বেশি এএফপি  লিভারের ক্যান্সারের জন্য উদ্বেগজনক। অন্যান্য ল্যাব পরীক্ষাগুলির মধ্যে রয়েছে ডেস-গামা-কার্বক্সি প্রথ্রোমিন, যা লিভারের ক্যান্সারে আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীদের করানো হয়।

Liver cancer diagnosis in bengali

 সিটি স্ক্যান  বা এমআরআই স্ক্যান:-   তলপেটের সিটি বা এমআরআই স্ক্যানগুলি পেটে লিভার এবং অন্যান্য অঙ্গগুলির বিশদ চিত্র তৈরি করে । রোগীর কোথায় টিউমার শুরু হচ্ছে বা ছড়াচ্ছে চিহ্নিত করতে, তার আকার নির্ধারণ করতে এবং এটি অন্য অঙ্গগুলিতে ছড়িয়ে পড়েছে কিনা তা নির্ধারণ করতে সাহায্য করে।

লিভার বায়োপসি :- লিভার ক্যান্সার নির্ণয়ের আর একটি উপায় হল লিভারের বায়োপসি। একটি লিভার বায়োপসির সময় লিভার টিস্যুর একটি ছোট টুকরো অপসারণ করা হয়। প্রক্রিয়া চলাকালীন কোনওরকম ব্যথা অনুভব করা থেকে বিরত রাখতে সর্বদা অ্যানাস্থেসিয়া ব্যবহার করা হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, নিডল বায়োপ্সি (needle biopsy) করা হয়। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন, টিস্যুর নমুনা সংগ্রহের দরুণ রোগীর তলপেট এবং লিভারের মধ্যে একটি পাতলা সূচ প্রবেশ করান হয়। এরপরে নমুনাটি একটি মাইক্রোস্কোপের নীচে পরীক্ষা করা হয়।

ল্যাপারোস্কোপি:-  লিভারের বায়োপসির জন্য ল্যাপারোস্কোপ ব্যবহার করেও করা যেতে পারে। ল্যাপারোস্কোপ হল ক্যামেরাযুক্ত একটি পাতলা, নমনীয় নল। ক্যামেরাটি রোগীর লিভার পর্যবেক্ষণ করতে এবং আরও সুনির্দিষ্ট ভাবে ক্যান্সারের কোষ সংগ্রহ করতে ব্যবহৃত হয় । 

যদি লিভারে ক্যান্সার পাওয়া যায় তবে এরপর ক্যান্সারের পর্যায় নির্ধারণ করা হয়। তার ওপর নির্ভর করে ডাক্তাররা চিকিৎসা করে থাকেন।

এর চিকিৎসা কিভাবে করা হয়?

চিকিৎসার ধরণ নির্ভর করে ক্যান্সার কতটা ছড়িয়ে পড়েছে এবং লিভারের পরিস্থিতির উপর । উদাহরণস্বরূপ, লিভারের সিরোসিস থাকে তাহলে তার ওপর ভিত্তি করে লিভার ক্যান্সারের চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়। 

লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট: এর মাধ্যমে ক্যান্সারাক্রান্ত লিভারকে অন্য একজনের সুস্থ লিভার দ্বারা প্রতিস্থাপিত করা হয়। এটি সাধারণত অ্যাডভান্সড স্টেজের রোগীদের করা হয়। লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের ক্ষেত্রে রোগীর বেশকিছু সমস্যা পরিলক্ষিত হতে পারে যেমন এই ধরনের রোগীদের ইমিউন সিস্টেমকে প্রশমিত করে রাখতে এক ধরনের ওষুধের ব্যাবহার করা হয় ফলে দ্রুত সংক্রমণ-এর সম্ভাবনা থাকে এছাড়াও  উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস, কিডনি এবং হাড় দুর্বল হওয়ার মতন সমস্যাও হতে পারে।  

liver cancer surgery

সার্জারি: লিভার ক্যান্সারে ক্যান্সারে আক্রান্ত লিভারের অংশটি অপসারণ করতে সার্জারি করা যেতে পারে। ছোট আকারের ক্যান্সার টিউমারগুলির চিকিৎসা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে করা হয়। অস্ত্রোপচারের ফলে রক্তপাত ও তা থেকে  সংক্রমণ, নিউমোনিয়া বা অ্যানাস্থেসিয়া সম্পর্কিত কিছু  পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে ।

অ্যাব্লেশন থেরাপি (Ablation therapy)   :- এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা কোনও সার্জারি ছাড়াই লিভার ক্যান্সারের কোষকে হত্যা করতে পারে। লেজার রশ্মি ব্যবহার করে বা সরাসরি ইনজেকশনের মাধ্যমে বিশেষ অ্যালকোহল বা অ্যাসিড দিয়ে ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলা যায়। এই কৌশলটি ক্যান্সার পরবর্তী পর্যায়ের  চিকিৎসাকালে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এম্বোলাইজেশন: ক্যান্সার কোষকে রক্ত সরবরাহকে বন্ধ করে দেওয়ার জন্য এমব্লাইজেশন নামক একটি পদ্ধতি ব্যবহার করে করা যেতে পারে। এই কৌশলে  একটি ক্যাথেটারের মাধ্যমে কিছু রাসায়নিক সেই  রক্তবাহী নালীগুলিতে প্রবেশ করানো হয় ও ব্লক করে দেওয়া হয় যেগুলি ক্যান্সার কোষগুলিকে সতেজ রাখে। সেইসব রক্তবাহী নালীগুলি ব্লক বা বন্ধ হলে ক্যান্সার কোষগুলি ক্রমে ক্রমে নিস্তেজ হয়ে পড়ে এবং দেহের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে পারে না। এম্বোলাইজেশনের ফলে জ্বর, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং বমি বমিভাব ইত্যাদির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে।

রেডিয়েশন থেরাপি:   উচ্চ-শক্তি সম্পন্ন বিকিরণ রশ্মি  ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলার জন্য ব্যবহার করা হয়। সাধারণ লিভার কোষও রেডিয়েশন রশ্মির প্রতি খুব সংবেদনশীল। তাই ঐ অঞ্চলের নিকটস্থ  ত্বকের জ্বালাভাব, ক্লান্তি, বমিভাব  পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এর ফলে হতে পারে

কেমোথেরাপি: কেমোথেরাপি অর্থাৎ ওষুধ ব্যবহার করে ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলা। এই ওষুধ মুখে অথবা রক্তনালীর মাধ্যমে রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয়।কেমোথেরাপিতে বিভিন্ন ধরণের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে যেমন ক্লান্তি, চুল পড়া, বমি বমি ভাব, পা ফোলা, ডায়রিয়া এবং মুখের ঘা ইত্যাদি। তবে এগুলি সাধারণত অস্থায়ী হয়।

বিভিন্ন টার্গেটেড এজেন্ট (Targeted Agents) :- সোরাফেনিব (নেক্সাভার ) একটি ওষুধ  যা অনেক অ্যাডভান্সড লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকা (3 মাস পর্যন্ত) দীর্ঘায়িত করতে পারে। সোরাফেনিব (নেক্সাভার) এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলির মধ্যে ক্লান্তি, ফুসকুড়ি, উচ্চ রক্তচাপ, হাত ও পায়ে ঘা এবং খিদে কমে যাওয়া ইত্যাদি রয়েছে।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
সাবস্ক্রাইব করুন

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর, তথ্য এবং চিকিৎসকের মতামত আপনার মেইল বক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন.