Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp

টিকা (ভ্যাকসিন) কি এবং টিকা সম্পর্কিত 14 টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও তার উত্তর

জন্মের সময়ে শিশুকে কি কি টিকা দেওয়া আবশ্যক?

বিসিজি, ওরাল পোলিও ড্রপ, হেপাটাইটিস বি : এই তিনটি টিকা জন্মের সময়ে শিশুকে দেওয়া হয় ।

কোন কোন টিকা দেওয়ার পর শিশুর জ্বর আসতে পারে?

fever in baby

যে কোনো টিকা দেওয়ার পরেই জ্বর আসতে পারে বা টিকাকরণের স্থানে ব্যথা হতে পারে । তবে 6 সপ্তাহ, 10 সপ্তাহ ও 14 সপ্তাহে পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিন দেওয়ার পর জ্বর আসার সম্ভাবনা বেশী থাকে ।

জ্বর বা ব্যথা হলে কি করা উচিত?

টিকার স্থান যদি লাল হয়ে ফুলে ওঠে, সেখানে ঠান্ডা সেঁক দিন । কোনো মলম লাগাবেন না, মালিশ করবেন না। প্যারাসিটামল ড্রপ বা সিরাপ দিতে হবে আপনার চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ।

টিকাকরণের পর কি কি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে ?

টিকাকরণের পরে সিরিয়াস এডভার্স এফেক্ট প্রায় দেখাই যায় না । তবু যদি জ্বর, ব্যথা, অতিরিক্ত কান্না, খিঁচুনি, পা তুলতে না পারা, হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এগুলি হয়, সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে নিকটবর্তী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে ।

সরকারি টিকা বাদে আর কি কি টিকা নেওয়া আবশ্যিক?

পিসিভি ( নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন), ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন, টাইফয়েড ভ্যাকসিন,  এম এম আর ভ্যাকসিন, হেপাটাইটিস এ ভ্যাকসিন, ভ্যারিসেলা ( চিকেন পক্স) ভ্যাকসিন, এইচ পি ভি ভ্যাকসিন ( হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস) নেওয়া জরুরি ।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন কতবার নিতে হবে?

ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন প্রথম দেওয়া হয় শিশুর 6 মাস বয়সে । এর একমাস পরে, অর্থাৎ সাত মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজটি দেওয়া হয় । তারপর থেকে প্রতি বছর একটি করে ডোজ নিতে হবে । এটি নেওয়ার জন্য বয়সের কোনো ঊর্দ্ধসীমা নেই।

টাইফয়েডের টিকাও কি বারবার নিতে হয়?

না, টাইফয়েড কঞ্জুগেট ভ্যাকসিন 6 মাসের বেশি বয়সের যে কোনো শিশুকে দেওয়া যেতে পারে । একটি ডোজ ই যথেষ্ট ।

জন্মের সময়ে তো হেপাটাইটিসের টিকা দেওয়া হয় । তাহলে একবছর বয়সে আবার দিতে হবে?

জন্মের সময়ে হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়া হয় । এক বছর বয়সে হেপাটাইটিস এ টিকা দেওয়া হয় ।দুটি সম্পূর্ণ আলাদা ।

ভ্যাকসিন সময় মত দেওয়া হয়নি । দেরি করে কি দেওয়া যাবে?

ভ্যাকসিন নির্দিষ্ট সময় বা শেডিউল অনুসারে দেওয়াই উচিত । দেরি হয়ে থাকলে যত শীঘ্র সম্ভব নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা শিশু বিশেষজ্ঞ র সাথে যোগাযোগ করুন । বেশিরভাগ টিকাই দেরি হলেও দেওয়া যায় । তবে কোনো কোনো টিকা নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই দিতে হয় । যেমন, রোটাভাইরাস ভ্যাকসিন বা নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিন । খুব দেরি হলে এগুলি দেওয়া যায় না ।

বাড়িতে পোষা কুকুর আছে । কুকুরকে ভ্যাকসিন দেওয়া আছে । শিশুকে কি দিতে হবে?

বাড়িতে যদি পোষা কুকুর থাকে, শে আপনার শিশুকে না কামড়ালেও, শিশুকে দুটি ডোজ এন্টি রেবিজ ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত । একে বলে প্রি এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস । তবে এর পরেও যদি বাচ্চাকে কুকুর কামড়ায় , তাহলে আবার দুটি ডোজ নিতে হবে ।

আমার বাচ্চাকে আগে একবার রেবিজের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে । আবার কুকুর কামড়েছে । আবার কি ভ্যাকসিন নিতে হবে?

যদি রেবিজের টিকা নেওয়ার তিন মাসের মধ্যে কুকুর কামড়ায়, তাহলে আর নিতে হবে না । কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলে আবার দুটো ডোজ নিতে হবে ।

মেনিঙ্গোকক্কাল ভ্যাকসিন নেওয়া কি আবশ্যক?

না, শিশুর যদি কোনো কঠিন অসুখ থেকে থাকে, যেমন হার্টের অসুখ, কিডনির অসুখ, ডায়াবিটিস, এইচ আই ভি, বা যদি স্প্লিনের অপারেশন হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই নিতে হবে । এবং এর সাথে আরও কিছু টিকা নিতে হবে । এ বিষয়ে আপনার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে যোগাযোগ করুন ।

ক্যান্সারের কি ভ্যাকসিন হয়?
HPV VAccine
Hpv vaccine

মেয়েদের যোনিতে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ইনফেকশন থাকলে জরায়ুর ক্যান্সারের (সার্ভাইকাল ক্যান্সার) সম্ভাবনা বাড়ে শুধু তাই নয় এই ভাইরাসের কারণে মুখ ও গলার ক্যান্সার, পেনাইল ক্যান্সার, কোলোন ক্যান্সারের মতন মারাত্মক ক্যান্সারের জন্য দায়ী । এই হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের টিকা আছে , সঠিক বয়সে এই টিকা নিয়ে রাখলে সার্ভাইকাল ক্যান্সার সহ বহু ক্যান্সার থেকে নিরাপদে থাকা সম্ভব।

টিকা না দিলে কি হয় ?

টিকা নেওয়ার কারণ হল বিভিন্ন রোগ থেকে শরীরকে রক্ষা করা। যদি সঠিক সময়ে টিকা নেওয়া না হয় তাহলে উপরে বর্ণিত রোগগুলির বিরুদ্ধে আমাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে না ফলে আমাদের শরীর সহজেই ওই রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে পড়ব যা পরবর্তী কালে চিকিৎসা করা বেশ জটিল এবং ব্যয়সাধ্য, অনেক সময় আবার চিকিৎসা করা একেবারেই সম্ভব হয় না। তাই সঠিক সময়ে টিকা নেওয়াটা একজন সচেতন নাগরিকের কর্তব্য ।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
সাবস্ক্রাইব করুন

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর, তথ্য এবং চিকিৎসকের মতামত আপনার মেইল বক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন.