Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp

ভিটামিন ই এর ব্যবহার এবং ভিটামিন ই ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম

ভিটামিন ই হল এমন একটি ভিটামিন, যা ফ্যাটে দ্রবীভূত। ভেজিটেবল অয়েল, মাংস, ফল, শাক সব্জি, পোল্ট্রির ডিম, শস্য দানা ইত্যাদি থেকে এই ভিটামিন পাওয়া যায়। ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট হিসাবেও পাওয়া যায়। শরীরে ভিটামিন ই এর অভাবে যে সকল সমস্যা বা রোগ দেখা দেয় তা প্রতিহত করতে ভিটামিন ই এর ব্যবহার করা হয়। যদিও এটি খুবই বিরল, তাও কিছু ক্ষেত্রে জেনেটিক ডিসঅর্ডার থাকলে এটা দেখা যায়, এবং খুব কম ওজন যুক্ত প্রি ম্যাচিওর বাচ্চাদের ভেতরও দেখা যায়। এছাড়াও মাংস পেশির নানা সমস্যার চিকিৎসা করতে প্রধানত খেলাধূলার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়।

ভিটামিন ই কেমন ভাবে কাজ করে

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সঠিক ভাবে কাজ করানোর জন্য ভিটামিন ই এর প্রয়োজন হয়। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবেও কাজ করে, ফলে কোশকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে।

  • জেনেটিক মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার, যা অ্যাটাক্সিয়া নামে পরিচিত, শরীরে ভীষণ রকমের ভিটামিন ই এর অভাব তৈরি করে। এর চিকিৎসায় ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা হয়।
  • শরীরে কোনো কারনে ভিটামিন ই এর অভাব তৈরি হলে, তখন ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট এর ট্যাবলেট কজেতে দেওয়া হয়।

ভিটামিন ই এর ব্যবহার

অ্যালঝাইমার্স ডিজিজ রোধে

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যে ভিটামিন ই গ্রহন করলে অ্যালঝাইমার্স ডিজিজের বৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রন করা যায়। যদিও সমস্ত গবেষণায় তা দেখা যায়নি। ভিটামিন ই অ্যালঝাইমার্স ডিজিজ কে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, তবে  অ্যান্টিঅ্যালঝাইমার্স ওষুধের সাথে সাথে ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট নিলে রোগের বৃদ্ধির গতিকে ধীর করে দেওয়া যায়।

ক্রনিক রোগের ফলে হওয়া অ্যানিমিয়া

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ভিটামিন ই erythropoietin ওষুধের গ্রহণ ক্ষমতা শরীরে বৃদ্ধি পায়, যা শিশু ও বড়দের ভেতর লোহিত রক্তকনিকা তৈরিতে সাহায্য করে।  

বিটা থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা

এটি একটি রক্ত সম্পর্কিত রোগ, যাতে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমান কমে যায়। যেসব শিশুদের মধ্যে বিটা থ্যালাসেমিয়া দেখা গেছে, তাদের ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্ট খেতে দেওয়া হয়।

এক্সট্রাভ্যাসেশান

ইন্ট্রাভেনাস ড্রাগ লিকেজ হয়ে আশেপাশের ত্বক ও টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়লে তাকে এক্সট্রাভ্যাসেশান বলে। ডাইমিথাইলসাফক্সাইড এর সাথে ভিটামিন ই দিয়ে চিকিৎসা করলে কেমোথেরাপির ফলে তৈরি হওয়া এই এক্সট্রাভ্যাশেসান কে নিয়ন্ত্রন করা যায়।

মেন্সট্রুয়াল ক্র‍্যাম্পস

মেন্সট্রুয়াল সাইকেল শুরু হওয়ার দুদিন আগে থেকে এবং সাইকেল শেষ হওয়ার দুদিন পর পর্যন্ত যদি ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়া যায়, তাহলে মেন্সট্রুয়াল ক্র‍্যাম্পস এবং ব্লাড লস অনেক কম হয়। ফিস অয়েলের সাথে ভিটামিন ই নিলে তা আরো ভালো কার্যকরী হয়।

গ্লোমেরুলোস্ক্লরোসিস

এর ফলে কিডনির ভেতরের ব্লাড ভেসেল গুলো শক্ত হয়ে যায়। দেখা গেছে যে, ভিটামিন ই খাওয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করলে গ্লোমেরুলোস্ক্লরোসিসে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে কিডনির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

গ্র‍্যানুলোমা অ্যানুলেয়ার

এটি একটি ননক্যান্সারাস ত্বকের ক্ষত। ভিটামিন ই ত্বকের আক্রান্ত অংশে ব্যবহার করলে রোগ বাড়তে পারে না এবং ত্বকের ক্ষতগুলো সেরে যায়।

 Huntington disease

এটি একটা ব্রেন ডিসঅর্ডার যার ফলে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের চলাচল ক্ষমতা, অনুভূতি এবং চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। ন্যাচারাল ভিটামিন ই (RRR–alpha—tocopherol) আর্লি হানিংটন ডিজিজের রোগলক্ষন কমাতে খুব ভালো ভাবে কাজ করে, যদিও অ্যাডভান্স স্টেজে ত্রমন কাজ করে না।

ইন্ট্রাক্রানিয়াল হেমারেজ

 ব্রেন টিস্যু এবং স্কাল এর ভেতর থেকে রক্তপাত হতে শুরু হয়, যা ব্রেন ড্যামেজ করতে পারে এবং তা মৃত্যুর কারনও হতে পারে।

  • এছাড়াও মেল ইনফার্টিলিটি রোধেও ভিটামিন ই খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেসব পুরুষদের ফার্টিলিটি জনিত সমস্যা আছে, ভিটামিন ই গ্রহনের ফলে তাঁদের সমস্যার সমাধান হয় তবে খুব হাই ডোজে ভিটামিন ই এবং সাথে ভিটামিন সি নিলে তেমন কোনো উপকার হয় না।
  • নন-অ্যালকোহোলিক স্টেয়াটো হেপাটাইটিস এর ক্ষেত্রে যেখানে রোগীর লিভারে প্রদাহ হয় এবং ফ্যাটের পরিমান বাড়তে থাকে তখন দেখা গেছে যে প্রতিদিন ভিটামিন ই গ্রহন করলে শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্কদের ভেতর লিভারের সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা গেছে।
  • যেসব মানুষের খাদ্যের ভেতর অধিক পরিমাণে ভিটামিন ই থাকে, তাঁদের পার্কিনসন্স ডিজিজে ভোগার সম্ভাবনা কম থাকে, তবে যাঁরা এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গেছেন, ভিটামিন ই তাঁদের ওপর কোনো প্রভাব ফেলতে পারে না।
  • যেসব রোগীদের লেসার আই সার্জারি হয়েছে (ফোটোরিয়াক্টিভ কেরাটেকটমি) তারা সঠিক মাত্রায় ভিটামিন এ এর সাথে ভিটামিন ই গ্রহন করলে সার্জারি পরবর্তী সময়ে সুস্থতা দ্রুত হয়।
  • ভিটামিন ই খাওয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করলে দুশ্চিন্তা, ভয়, অবসাদ ইত্যাদি প্রিমেন্সট্রুয়াল সিম্পটম কে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
  • বয়স্ক মানুষদের খাদ্যের মাধ্যমে ভিটামিন ই গ্রহণের পরিমান বাড়ালে তাঁদের চলাচল ক্ষমতা ও পেশির শক্তি বৃদ্ধি হয়।
  • রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস এর সঠিক চিকিৎসার সাথে ভিটামিন ই খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহন করলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি দেখা যায়।
  • ত্বকে সানবার্নের ফলে যে ক্ষতি এবং প্রদাহ হয়, ভিটামিন ই এবং সি একসাথে গ্রহণ করলে ত্বকের অবস্থার উন্নতি ঘটে এবং ভিটামিন ই এবং সি রোদে যাওয়ার আগে ত্বকে লাগালে সানবার্ন কম হয়।
  • অ্যান্টিসাইকোটিক ড্রাগ ব্যবহার করার ফলে একপ্রকার মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার (tardive dyskenesia) তৈরি হয়। ভিটামিন ই ব্যবহারের ফলে এই ডিসঅর্ডারের উন্নতি হয়। আবার কোনো কোনো সমীক্ষায় দেখা গেছে যে এর ফলে অবস্থার উন্নতি না হলেও অবনতি কে আটকানো যায়।

ভিটামিন ইক্যাপসুল এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • ভিটামিন ই যখন খাওয়া হয়, তখন তা সাধারণত সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে কোনো সাইড এফেক্ট দেখা যায় না । এর পরিমান দৈনিক  1000 m.g এর নীচে হওয়া উচিত। এটি সিন্থেটিক ভিটামিন ই এর 1100 IU ( all-rac-alpha-tocopherol) এবং প্রাকৃতিক ভিটামিন ই এর 1500 IU (RRR-alpha-tocopherol) এর সমান হয়। মনে রাখতে হবে যে ডোজ যত বাড়তে থাকে তত সাইড এফেক্ট হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায়। সাধারণত মাথা ঘোরা, বমি ভাব, পেটে ব্যাথা, ডায়রিয়া, ঝাপসা দৃষ্টি, দুর্বলতা, ঝাপসা দৃষ্টি,  দুর্বলতা ইত্যাদি সাইড এফেক্ট দেখা যায়।
  • সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে ভিটামিন ই সাধারণত খুব নিরাপদ যখন এটি ত্বকের কোনো সমস্যায় সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা হয়। খুব রেয়ার কিছু মানুষের মধ্যে ত্বকে চুলকানো বা প্রদাহ দেখা গেছে।
  • ভিটামিন ই যখন শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহন করা হয়, তা বিপজ্জনক হতে পারে। ই– সিগারেট এবং অন্যান্য ভেপিং প্রোডাক্ট এর ভেতর ভিটামিন ই, ভিটামিন ই অ্যাসিটেট হিসাবে থাকে যা ফুসফুসের ভীষণ ক্ষতি করতে পারে।

ভিটামিন ই খাওয়ার নিয়ম

সাবধানতা

গর্ভাবস্থা প্রেগন্যান্সির প্রথম আট সপ্তাহে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিন ই গ্রহন করা উচিত নয়। যদিও প্রেগন্যান্সির শেষের দিকে এটি একদম সেফ যদি দৈনিক 1000 m.g পরিমানে গ্রহণ করা হয় (১৮ বছরের বেশি বয়সের মহিলাদের ক্ষেত্রে)।

ব্রেস্ট ফিডিংযেসব মায়েরা শিশুদের স্তন দুগ্ধ পান করাচ্ছেন তাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ই খাওয়া একদম নিরাপদ, যদি তা দৈনিক 1000 m.g পরিমানে খাওয়া হয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ই শিশুদের ক্ষেত্রে সাধারণত নিরাপদ, যদি তা সঠিক পরিমানে খাওয়া যায়। ১ থেকে ৩ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে 300 IU, ৪ থেকে ৮ বছরের শিশুদের ক্ষেত্রে 450 IU, ৯ থেকে ১৩ বছরের বয়সীদের ক্ষেত্রে 900 IU, ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে 1200 IU হল সঠিক পরিমান।

প্রিম্যাচিওর ইনফ্যান্ট দের ক্ষেত্রে ইন্ট্রাভেনাস ভিটামিন ই ক্ষতিকর এবং দৈনিক পরিমানের থেকে বেশি খেলে তাও ক্ষতিকর।

অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির ঠিক আগে এবং পরে ভিটামিন ই এবং অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন যেমন, ভিটামিন সি, বিটা ক্যারোটিন ইত্যাদি খাওয়া যাবে না। তা দ্রুত সুস্থতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

ব্লিডিং ডিসঅর্ডার থাকলে ভিটামিন ই গ্রহন করা যাবে না।

ডায়াবেটিস থাকলে এবং তার সাথে ভিটামিন ই খেলে তা হার্টের সমস্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ডায়াবেটিসের রোগীদের প্রতিদিন 400 IU এর বেশি ভিটামিন ই খাওয়া যাবে না।

হেড, নেক ক্যান্সার থাকলে ভিটামিন ই প্রতিদিন 400 IU এর বেশি খাওয়া যাবে না। এর বেশি খেলে ক্যান্সার আবার গিরে আসার সম্ভাবনা থাকে।

দু’বছরের বেশি সময় ধরে ভিটামিন ই খেতে থাকলে, তা ইনসুলিন রেসিস্টেন্স এর ক্ষতি করে এবং নন অ্যালকোহোলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ হতে পারে।

যাদের পূর্বে হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেছে,  তাদের ক্ষেত্রে দৈনিক 400 IU এর বেশি ভিটামিন ই মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

অস্টিওপরোসিস এ আক্রান্ত ব্যক্তিরা হাই ডোজে ভিটামিন ই এবং সি গ্রহন করলে এক্সারসাইজ এর মাধ্যমে যে উন্নতি ঘটার কথা, তা হয় না।

ভিটামিন ই প্রস্টেট ক্যান্সার এর সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে এবং যে পুরুষেরা প্রস্টেট ক্যান্সার এ ভুগছেন তাঁদের অবস্থার আরো অবনতি হয়।

রেটিনাইটিস পিগমেন্টোসা, যা রাতের বেলার দৃষ্টিকে দুর্বল করেব দেয় এবং সাইড ভিশন কে নস্ট করে দেয়, এই রোগ থাকলে ভিটামিন ই এই সম্ভাবনা আরো বাড়িয়ে দেয়। এই রোগে ভিটামিন ই সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দেওয়াই সবথেকে ভালো।

যাদের পূর্বে স্ট্রোক হয়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে 400 IU এর বেশি ভিটামিন ই খুব বিপজ্জনক হয়ে ওঠে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

সার্জারির সময়ে এবং পরে ভিটামিন ই রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাই সার্জারির কমপক্ষে দু’সপ্তাহ আগে থেকে ভিটামিন ই খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।

যাদের শরীরে ভিটামিন কে কম পরিমানে আছে, তাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ই রক্ত সঠিক ভাবে জমাট বাঁধায় বাধা সৃষ্টি করে

অন্যন্য ওষুধের সঙ্গে বিক্রিয়া

·     Cyclosporine (Neoral, Sandimmune) এর সাথে খুব হাই ডোজে ভিটামিন ই খেলে তা Cyclosporine শরীরে কতটা শোষিত হবে, তার ওপর প্রভাব বিস্তার করে। ভিটামিন ই Cyclosporine এর এফেক্ট এবং সাইড এফেক্টর ওপর প্রভাব ফেলে।

  • Cytochrome P450 3A4 Substrates — কিছু কিছু ওষুধ আমাদের পাকস্থলীতে গিয়ে ভেঙে যায় এবং তার প্রকৃতি পরিবর্তন হয়ে যায়। ভিটামিন ই লিভারের এই ওষুধকে ভাঙার ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে দেয়। এইসব ওষুধের সাথে ভিটামিন ই লহেলে তা ওষুধের কার্যকারিতা অনেক সময় কমিয়ে দেয়। যেসব ওষুধ লিভারে গিয়ে পরিবর্তন হয়ে যায়, সেরকম কয়েকটি ওষুধ হল —Lovastatin ( Mevacor), ketoconazole (Nizoral), itraconazole (Sporanox), fexofenadine (Allegra), triazolam (Halcion),  ইত্যাদি।
  • Anticoagulant /Antiplatelet Drugs — যেসব ওষুধ রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া কে ধীরগতি সম্পন্ন করে দেয় সেই সব ওষুধের সাথে ভিটামিন ই খেলে খুব সহজেই রক্তপাত ও কালশিটে পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়, কারন ভিটামিন ই নিজেই রক্তকে জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া কে ধীরগতি সম্পন্ন করে দেয়। যেসমস্ত ওষুধ এই গোত্রে পড়ে সেগুলি হল — aspirin, clopidogrel (Plavix), diclofenac (Voltaren, Cataflam, others), ibuprofen (Advil, Motrin, others), naproxen (Anaprox, Naprosyn, others), dalteparin (Fragmin), enoxaparin (Lovenox), heparin, warfarin (Coumadin), ইত্যাদি।
  • ক্যান্সারের চিকিৎসার ওপর প্রভাব — ভিটামিন ই অ্যন্টিঅক্সিডেন্ট।  যদিও এটি পর্যালোচনাধীন, তবুও মনে করা হয় যে ভিটামিন ই ক্যান্সারের ওষুধের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
  • ভিটামিন ই, সি বেটা-ক্যারোটিন, সেলেনিয়াম একসাথে খেলে যেসব ওষুধ কোলস্টেরল মাত্রা কমানোর জন্য ব্যবহার করা হয়,  তার কার্যক্ষমতা কমে যায়। কোলস্টেরল কমানোর জন্য যেসব ওষুধ ব্যবহার করা হয়, সেগুলি হল — atorvastatin (Lipitor), fluvastatin (Lescol), lovastatin (Mevacor), and pravastatin (Pravachol).
  • নিয়াসিন এর ওপর প্রভাব — ভিটামিন ই এর সাথে ভিটামিন সি, বিটা ক্যারোটিন, সেলেনিয়াম খেলে নিয়াসিনের কাজের ওপর প্রভাব ফেলে। নিয়াসিন শরীরে ভালো কোলেস্টেরল কে বৃদ্ধি করে। নিয়াসিনের সাথে ভিটামিন ই শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের পরিমান কমিয়ে দেয়।
  • Warfarin — Warfarin (Coumadin) রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়া কে ধীরগতি সম্পন্ন করে দেয়। ভিটামিন ই ও রক্ত জমাট বাঁধা কে ধীর করে দেয়, ফলে এই দুটো একসাথে নিলে খুব সহজেই ত্বকে কালশিটে পড়া ও অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরনের সম্ভাবনা থাকে। এর থেকে বাঁচতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা দরকার।
ভিটামিন ই ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম – পরিমান
  • প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ ও মহিলা এবং গর্ভবতী মহিলাদের প্রতিদিন খাদ্যের মাধ্যমে (RDA)  প্রাকৃতিক  ভিটামিন ই (RRR—Alpha— tocopherol) 15 mg (22 IU) এবং যেসব মায়েরা সন্তানদের দুগ্ধ পান করাচ্ছেন তাদের প্রতিদিন 19 mg (28 IU) প্রয়োজন।
  • ভিটামিন ই এর অভাব থাকলে প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রতিদিন 60—75 IU প্রয়োজন।
  •  ভিটামিন ই এর অভাব এবং সাথে অ্যাটাক্সিয়া থাকলে প্রতিদিন প্রাকৃতিক ভিটামিন ই (RRR— alpha— tocopherol) এর 800—1500 mg প্রয়োজন।
  • অ্যানিমিয়া থাকলে প্রতিদিন 447—745 IU ভিটামিন ই এর সাথে Erythropoietin 93—74U/kg/ Week প্রয়োজন
  • অ্যান্টিসাইকোটিক ড্রাগের প্রভাবে মুভমেন্ট ডিসঅর্ডার থাকলে প্রতিদিন 1600 IU প্রয়োজন
  • মেল ইনফার্টিলিটির জন্য প্রতিদিন 298—894 IU প্রয়োজন
  • অ্যাআলঝাইমার্স এর জন্য প্রতিদিন 2000 IU
  • রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস এর জন্য প্রতিদিন 600 IU
  • নন অ্যালকোহোলিক স্টেয়াটোহেপাটাইটিসের জন্য প্রতিদিন 800 IU প্রয়োজন
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
সাবস্ক্রাইব করুন

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর, তথ্য এবং চিকিৎসকের মতামত আপনার মেইল বক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন.