Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp

এইচআইভি কিভাবে ছড়ায় ? এইচ আই ভি বা এইডসের লক্ষণ গুলি কি কি?

এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস যা মূলত যৌন সংক্রমণের ফলে মানবদেহে বিস্তারলাভ করে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে বিলুপ্ত হয় আর এই অবস্থাকেই আমরা এইডস বলে থাকি। এইচআইভি বা এইডসের কোনও চিকিৎসা নেই । তবে এমন অনেক ওষুধ রয়েছে যা এই রোগের অগ্রগতি কে  ধীর করতে পারে। এই ওষুধগুলির ব্যবহারের ফলে অনেক উন্নত দেশগুলিতে এইডসের ফলে হওয়া মৃত্যু হ্রাস হয়েছে। আসুন আজ আমরা আলোচনা করি এই এইচআইভি বা এইডসের লক্ষণ , কারন, এবং চিকিৎসার ব্যাপারে।

এইডসের লক্ষণ গুলি কি কি ?

এইচআইভিতে আক্রান্ত বেশিরভাগ লোকের শরীরে ভাইরাস প্রবেশের  এক-দুমাসের মধ্যে  লক্ষণগুলি প্রকাশ পেতে থাকে।

  • জ্বর ,পেট খারাপ , মাথা ব্যাথা, পেশী ব্যথা এবং জয়েন্টে ব্যথা।
  • ফুসকুড়ি, গলা ও  মুখের মধ্যে ঘা, ফুলে যাওয়া লিম্ফ গ্রন্থি যেগুলি প্রধানত ঘাড়ে দেখা যেতে পারে।
  • এছাড়া অবসাদ ,ওজন হ্রাসের মত বিভিন্ন লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
এইডসের লক্ষণ

প্রাথমিক পর্যায়ে এই লক্ষণগুলি এতটাই হালকা হতে পারে যে আপনি সেগুলি অনেক সময় অনুভবও করতে পারবেন না। তবে ক্রমে ক্রমে  আপনার রক্ত প্রবাহে ভাইরাসের পরিমাণ (ভাইরাল লোড) দ্রুত বাড়তে  থাকে। ফলস্বরূপ, সংক্রমণটি খুবই সহজে  প্রাথমিক পর্যায় থেকে পরবর্তী পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে।

এইডস বা এইচআইভি কিভাবে ছড়ায়?

এইচআইভিতে আক্রান্ত হওয়ার জন্য, সংক্রামিত রক্ত, বীর্য বা যোনি স্রাব অবশ্যই আপনার শরীরে প্রবেশ করতে হবে। এটি বিভিন্ন উপায়ে ঘটতে পারে। যেমন-

unprotected sex 01
  • সহবাস– আপনার যদি সংক্রামিত সঙ্গীর রক্ত, বীর্য বা যোনি স্রাব আপনার শরীরে প্রবেশ করে  তবে আপনি সংক্রামিত হতে পারেন।
  • মুখের ঘা-এর মাধ্যমে ভাইরাসটি আপনার শরীরে প্রবেশ করতে পারে ।
  • রক্ত সঞ্চালন থেকে– কিছু ক্ষেত্রে, রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণ হতে পারে।
  • সূঁচ ব্যবহারের ক্ষেত্রে– দূষিত ওষুধের প্যারাফেরানালিয়া (সূঁচ এবং সিরিঞ্জ) ব্যবহার করলে  আপনার দেহে এইচআইভি এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগগুলির যেমন হেপাটাইটিসের  ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
  • গর্ভাবস্থা বা প্রসবের সময় বা স্তন পানের মাধ্যমে– যে সমস্ত সংক্রামিত মায়েরা এই ভাইরাসটি  বহন করে তাদের স্তন পানের মাধ্যমে খুব সহজে বাচ্চার শরীরে এই সংক্রামণটি প্রবেশ করতে পারে। তবে এইচআইভি পজিটিভ মায়েরা যারা গর্ভাবস্থায় এইচআইভি সংক্রমণের  চিকিত্সা পান তাদের বাচ্চাদের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকে।

এইডসের নিয়ন্ত্রণ কি ভাবে করা সম্ভব?

এইচআইভি সংক্রমণ রোধ করার জন্য কোনও ভ্যাকসিন নেই এবং এইডসের কোনও প্রতিকার নেই। তবে আপনি নিজেকে এবং অন্যদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারেন। যেমন –

কন্ডোম
  • প্রতিবার সেক্স করার সময় একটি নতুন কনডম ব্যবহার করুন। 
  • মহিলারা একটি মহিলা কনডম ব্যবহার করতে পারেন। আপনার এইচআইভি হলে আপনার যৌন অংশীদারদের বলুন।
  • আপনার বর্তমান এবং অতীতের সমস্ত যৌন অংশীদারদের বলা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি এইচআইভি পজিটিভ। তাদের পরীক্ষা করা দরকার।
  • অনেক ক্ষেত্রে এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তির সূঁচ না জানতেই ব্যবহার করলে এই সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। যদি আপনি ওষূধ নেওয়ার জন্য কোন  সূঁচ ব্যবহার করেন তবে   আপনি দেখে নিন যেন সূঁচটা নতুন হয়।
  • আপনি যদি গর্ভবতী হন, তবে এখনই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ আপনি যদি এইচআইভি পজিটিভ হন তবে আপনার সংক্রমণটি আপনার শিশুর মধ্যে দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে  আপনি যদি গর্ভাবস্থায় চিকিৎসা নেন তাহলে  আপনি আপনার শিশুর মধ্যে সংক্রমনের ঝুঁকিটি উল্লেখযোগ্যভাবে কাটাতে পারেন।

আশার কথা এই যে, সাম্প্রতিককালে বেশ কিছু দেশের বিজ্ঞানীরা এইডসের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব বলে দাবী করেছেন। কিছু রোগী এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি লাভও করেছেন।  

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
সাবস্ক্রাইব করুন

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর, তথ্য এবং চিকিৎসকের মতামত আপনার মেইল বক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন.