ডিহাইড্রেশন

আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবকটি উপাদান গুলোর মধ্যে জল হল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কারণ জল । .আমাদের দেহে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় কিছু মিনারেলস । তাছাড়া জল আমাদের দেহে দ্রাবক রুপে কাজ করে এবং ইলেক্ট্রোলাইটস এর ব্যাল্যান্স বজায় রাখতে সাহায্য করে । বয়স এবং লিঙ্গভেদে আমাদের শরীরে জলের পরিমাণের ভিন্নতা রয়েছে , একজন ১৯-৫০ বছর বয়সি পুরুষ এবং মহিলার শরীরে যথাক্রমে ৪৩-৭৩% , ৫০-৬০% জলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় ।

দেহে প্রয়োজনীয় জলের পরিমাণ কমে যাওয়াকে ডিহাইড্রেশন ( জলশূন্যতা ) বলা হয় যার ফল স্বরুপ আমাদের অতিরিক্ত তৃষ্ণা ,শারীরিক দুর্বলতা ,গাঢ় হলুদ এবং দুর্গন্ধ যুক্ত প্রস্বাব , মাথাঘোরা বা হাল্কা মাথাব্যথা ছারাও অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিতে পারে ।

গ্রীষ্মের এই দাবদাহে দেশের বিভিন্ন শহর,মহানগরী এবং অন্যান্য উষ্ণ অঞ্চল গুলতে যেখানে তুলনামুলক বেশি তাপমাত্রা রয়েছে সেখানকার লোকেদের ডিহাইড্রেশন হবার সম্ভাবনা তুলনামুলক বেশি রয়েছে । তাই গ্রীষ্মের এই দাবদাহে ডিহাইড্রেশন কে প্রতিরোধ করতে দেহে প্রয়োজনীয় মাত্রায় জলের যোগান দেওয়া জরুরি । শুধু বেশি করে জল খেয়েই যে জলের যোগান দিতে হয় তা নয় । জল খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারে এমন কিছু রাখা উচিত যেগুলোর মধ্যে জলের পরিমান বেশি রয়েছে এবং যা আমাদের দেহে জলের সঠিক পরিমান বজায় রাখতে সহায়ক । আজ এখানে এমনই কিছু খাবারের ( ফল , শব্জি ) কথা আলোচনা করবো ।

চাল কুমড়ো –

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ , কর্ণাটক , ত্রিপুরা , কেরল সহ বিভিন্ন রাজ্যে এর চাষ হয় এবং এটি সব্জি হিসেবে দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহৃত হয় । চালকুমড়োতে রয়েছে শতকরা ৯৬.৫% জল যা আমাদের শরীরে জলের পরিমান বাড়াতে সাহায্য করে এবং ডিহাইড্রেশন হওয়া থেকে রক্ষা করে ।

তরমুজ –

তরমুজ

এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিনে ভরপুর তরমুজে রয়েছে শতকরা ৯৫.৮ % জল যা আমাদের শরীরে জলের যোগান দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা কে নিয়ন্ত্রন করে এবং ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা করে ।

টমেটো –

আজকাল টমেটো সারা বছরই বাজারে পাওয়া যায় যা সব্জি হিসেবে রান্নায় ব্যবহার করার পাশাপাশি চাটনি এবং স্যলাড হিসেবেও খাওয়া হয় । টমেটোতে রয়েছে ৯৪ % জল যা আমাদের দেহে জলের অভাব পুরন করতে যথেষ্ট ভুমিকা নিতে পারে ।

গরুর দুধ –

গরুর দুধে সুস্থভাবে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় প্রায় প্রত্যেকটি উপাদান পাওয়া যায় । এতে রয়েছে শতকরা ৮৭.৫ % জল যা জলের অভাব পুরন করে আমাদের হাইড্রেট রাখতে সহায়ক ।

শসা –
শসা

পশ্চিমবঙ্গ সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে শসার চাষ হয় । এটি বেশীর ভাগ সময় স্যালাড হিসেবে খাওয়া হয় । শসাতে রয়েছে শতকরা ৯৬% জল যা আমাদের সরিরে জলের অভাব দূর করতে সহায়ক ।

সব শেষে এটাই বলবো যে গ্রীষ্মের এই দাবদাহে ডিহাইড্রেশন থেকে রক্ষা পেতে বেশি করে জল খাওয়ার পাশাপাশি যে খাবার গুলোতে জলীয় ভাগ বেশি রয়েছে সেসব খাবার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখুন ।

Recent Posts

আমাদের সাম্প্রতিক পোষ্ট গুলি দেখতে ক্লিক করুন

Cancer (ক্যান্সার)

ক্যান্সারের লক্ষণ ও তার চিকিৎসা

এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার বা জরায়ুর ক্যান্সার- লক্ষণ ও চিকিৎসা

সমগ্র বিশ্বে, মহিলাদের মধ্যে যত রকম ক্যান্সার হয় তাদের মধ্যে এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার বা জরায়ুর ক্যান্সার চতুর্থ । যদিও ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে এই …

থাইরয়েড ক্যান্সার এর লক্ষণ

 থাইরয়েড গলার গোড়ায়  একটি ছোট, প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি  যেখান থেকে  ট্রাইওডোথাইরোনিন (T3) এবং থাইরক্সিন (T4) হরমোন ক্ষরিত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় …