Written by

Health and Wellness Blogger
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp

হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা

যকৃতে যদি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের (HBV) সংক্রমণ ঘটে তবে তাকে হেপাটাইটিস বি রোগ বলা হয়।এটি দুই প্রকারের হয় – চূড়ান্ত সংক্রমণ (আকস্মিক সংক্রমণ, যা খুব দ্রুত বাড়তে পারে কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা হলে অল্প সময়ে নির্মূল হয়) এবং ক্রনিক (দীর্ঘস্থায়ী) সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি গুরুতর হলেও এতে বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্করা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন। শিশু এবং ছোট ছেলেমেয়েদের ক্রনিক এবং দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। 

হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ

হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ প্রথমে খুব সামান্য পরিমাণে থাক, বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে, কোনো লক্ষণই থাকে না। তবে পরে এটি গুরুতর হয়ে উঠতেও পারে। লক্ষণগুলি সাধারণত সংক্রমণের প্রায় এক থেকে চার মাস পরে প্রকাশ পায়, কিন্তু অনেক সময় সংক্রমণের দুই সপ্তাহের মধ্যেও এই রোগের লক্ষণ দেখা দিতে পারে ।

হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণগুলি হল ;
⦁ পেটে যন্ত্রনা।
⦁ গাঢ় রঙের প্রস্রাব।
⦁ ফ্যাকাসে রঙের মল।
⦁ একটানা জ্বর।
⦁ গাঁটে গাঁটে ব্যথা।
⦁ খিদে কমে যাওয়া।
⦁ বমি বমি ভাব এবং বমি।
⦁ দুর্বলতা এবং ক্লান্তি।
⦁ ত্বক এবং চোখের সাদা অংশ হলদেটে হয়ে যাওয়া(জন্ডিস)।

হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ

হেপাটাইটিস বি এর যে কোনও লক্ষণ শরীরে প্রকাশ পাচ্ছে মনে হলেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার ডাক্তারবাবুর কাছে যান। তীব্র হেপাটাইটিস বি এর লক্ষণ 60 বছরের বেশি বয়স্ক কারো দেখা দিলে তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আপনি যদি এই রোগে আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে এসে থাকেন তবে তা অবিলম্বে আপনার ডাক্তারবাবুকে জানান। তিনি আপনার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে সফল হতে পারেন।

হেপাটাইটিস বি এর আশঙ্কার কারণ ;

হেপাটাইটিস বি একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা রক্ত বা অন্যান্য শরীর নিঃসৃত স্রাবের মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। বীর্য বা যোনিস্রাবও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

হেপাটাইটিস বি ছড়ানোর কয়েকটি মাধ্যম;
⦁ কনডম বা অন্যান্য সাবধানতা অবলম্বন না করে এইচ বি ভি রয়েছে এমন কোনও ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন করা।
⦁ টুথব্রাশ, রেজার, বা নখ কাটার সরঞ্জাম অর্থাৎ যা যা রক্তের সংস্পর্শে আসে সেগুলি নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে ব্যবহার করা।
⦁ জীবাণুমুক্ত করা হয়নি এমন সরঞ্জামগুলি দিয়ে উলকি করা বা শরীরে কোথাও ফুটো করা যেমন কান বা নাক বেঁধানো।
⦁ একই ইনজেকশনএর সূঁচ, সিরিঞ্জ, বা অন্যান্য সরঞ্জাম, ড্রাগ নেওয়া অর্থাৎ নেশা করার সময়, একই সঙ্গে অনেকজন ভাগ করে ব্যবহার করা।
⦁ জন্মদানকারী পিতা-মাতা থেকে নবজাতক শিশু মধ্যে সংক্রমণ।
ভাইরাসটি জিভের লালাতেও পাওয়া যেতে পারে।

কিন্তু হেপাটাইটিস বি এর সংক্রমণ যেগুলির দ্বারা হয়না ;
⦁ চুম্বন।
⦁ হাঁচি।
⦁ কাশি।
⦁ বাসনপত্র।

আপনার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত কোনোটি যদি প্রযোজ্য হয় তাহলে আপনার রক্ত পরীক্ষা খুবই জরুরী ;
⦁ ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ নেন।
⦁ যদি কিডনি ডায়ালাইসিস চলে।
⦁ এমন একটি দেশে যদি জন্মগ্রহণ করেন যেখানে হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ খুবই বেশি রয়েছে।
⦁ হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তি যদি আপনার পরিবারের একজন হন বা আপনার যৌন সঙ্গী হন।
⦁ ইমিউন সিস্টেমকে দমন করে এমন ওষুধ যদি আপনি গ্রহণ করেন।
⦁ যদি রক্ত বা অঙ্গ দান করেন।
⦁ জন্মদানকারী পিতামাতার যদি হেপাটাইটিস বি থাকে তাহলে তাদের সদ্যোজাত শিশু।
⦁ রক্ত পরীক্ষায় যদি দেখা যায় যে এলিভেটেড লিভার এনজাইমগুলি রক্তে রয়েছে।
⦁ যদি অন্তঃসত্ত্বা হন।
⦁ যদি সমকামী পুরুষ হন।
⦁ আপনার যদি একাধিক যৌনসঙ্গী থাকে।
⦁ যদি এইচআইভি থাকে।

হেপাটাইটিস বি হয়েছে কি না কি করে বুঝবেন

আপনার ডাক্তারবাবু আপনাকে পরীক্ষা করবেন এবং লিভারের ক্ষতির কোনো লক্ষণ যেমন ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া বা পেটে ব্যথা আছে কি না তা দেখবেন।

আপনার এই রোগ হয়েছে কিনা তা নির্ণয় করার জন্যে পরীক্ষাগুলি হল ;
⦁ রক্ত পরীক্ষা : রক্ত পরীক্ষাগুলি আপনার দেহে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের লক্ষণগুলি সনাক্ত করতে পারে এবং এটি তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী কিনা তা আপনার ডাক্তারকে জানাতে পারে।

রক্ত পরীক্ষা


⦁ লিভার আল্ট্রাসাউন্ড : ক্ষণস্থায়ী ইলাস্টোগ্রাফি নামক একটি বিশেষ আল্ট্রাসাউন্ড লিভারের ক্ষতির পরিমাণ বলে দিতে পারে।
লিভার বায়োপসি : লিভারের ক্ষতি পরীক্ষা করার জন্য আপনার ডাক্তারবাবু আপনার লিভারের তন্তুর একটি ছোট নমুনা (লিভার বায়োপসি) সংগ্রহ করবেন। এই পরীক্ষার সময়, ডাক্তারবাবু আপনার ত্বকের মধ্য দিয়ে আপনার লিভারে একটি পাতলা সূঁচ প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষাগার বিশ্লেষণের জন্য একটি টিস্যুর বা তন্তুর নমুনা নিয়ে নেবেন।

হেপাটাইটিস বি এর চিকিৎসা

অ্যাকিউট হেপাটাইটিস বি
চূড়ান্ত সংক্রমণে, রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্যে সহায়ক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় । সাধারণত কোনও ওষুধের পরামর্শ দেওয়া হয় না। পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্য, প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা এবং বিশ্রাম নিতে বলেন। আশঙ্কাজনক মনে হলে,ডাক্তারবাবু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ দেন বা জটিলতা প্রতিরোধের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন।

দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস বি
⦁ অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ : কোনও দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ সাধারণত টেনোফভির, এন্টেক্যাভির, ল্যামিভুডিন ইত্যাদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ খেতে দেওয়া হয়। চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য থাকে সিরোসিসকে প্রতিরোধ করা এবং যকৃতে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে দেওয়া।
⦁ ইন্টারফেরন ইনজেকশন : এটি প্রধানত হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত তরুণ যারা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা এড়াতে চান তাদের জন্য ব্যবহৃত হয়। মহিলারা এই ইঞ্জেকশনের কোর্স শেষ করার পরে কয়েক বছরের মধ্যে গর্ভবতী হতে পারেন কিন্তু এই ইনজেকশন চলাকালীন গর্ভবতী হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।
⦁ যকৃত প্রতিস্থাপন : যদি আপনার লিভার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তবে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা যকৃত প্রতিস্থাপন একটি বিকল্প হতে পারে। এটি করার সময়, সার্জন আপনার ক্ষতিগ্রস্থ লিভারটি সরিয়ে দিয়ে সেই জায়গায় একটি সুস্থ লিভার প্রতিস্থাপন করেন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on telegram
Share on whatsapp
সাবস্ক্রাইব করুন

স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন খবর, তথ্য এবং চিকিৎসকের মতামত আপনার মেইল বক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন.